সেই কবে থেকে বৃটেনের রাজনীতি অস্থির। একের পর এক প্রধানমন্ত্রী আসছেন আর যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করার কথা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের। দায়িত্ব নেয়ার পর সরকারের ডিজিটাল পরিচয়পত্র (ডিজিটাল আইডি) প্রকল্প বাতিল করার কথা তার। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে সরকারের সম্পদ ও অর্থ ব্যয় করাই হবে তার অগ্রাধিকার। ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে কাজ করার কারণে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত বার্নহাম আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ের স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। একই দিনে তিনি তার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামও ঘোষণা করবেন। বার্নহামের কার্যালয় জানিয়েছে, দায়িত্ব নেয়ার পর তার প্রথম পদক্ষেপগুলোর একটি হবে সব কর্মীর জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র চালুর পরিকল্পনা বাতিল করা। অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলার উদ্দেশ্যে নেয়া এ প্রকল্পকে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যদের একটি কমিটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ উদ্যোগ বলে আখ্যা দিয়েছিল। সমালোচনার মুখে স্টারমার চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। বার্নহামের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্পে যে সময় ও সম্পদ ব্যয় হওয়ার কথা ছিল, তা এখন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা হবে। যেমন মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়তা করা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৃটেনে পরিচয়পত্র ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। বর্তমানে দেশটির নাগরিকরা পরিচয় প্রমাণের জন্য সাধারণত পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করেন। গত নভেম্বরে বৃটেনের অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটি হিসাব দিয়েছিল, ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১৮০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হতে পারে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য জুলিয়া লোপেজ বলেন, লেবার পার্টি এই প্রকল্পে কোটি কোটি পাউন্ড অপচয় করেছে। এখন অ্যান্ডি বার্নহাম এমনভাবে দেখাতে চাইছেন যেন তিনিই এসে পরিস্থিতি উদ্ধার করছেন। লেবার পার্টির উপনেতা এবং বার্নহামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লুসি পাওয়েল বলেন, প্রকল্পটি বাতিল করে যে অর্থ সাশ্রয় হবে তা হয়তো খুব বেশি নয়। তবে এটি অগ্রাধিকার পুনঃনির্ধারণের একটি উদাহরণ। বিবিসি’র ‘সানডে উইথ লরা কুয়েন্সবার্গ’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটি নতুনভাবে শুরু করার, সরকারকে সতেজ করার এবং যেসব বিষয় শুধু অর্থ নয়, সরকারের মনোযোগও অন্যদিকে সরিয়ে নিচ্ছে, সেগুলো পুনর্বিবেচনার একটি সুযোগ।
বিবিসি ও স্কাই নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহামের মন্ত্রিসভার সদস্য বা অন্য কোনো নতুন নীতির বিষয়ে বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানান পাওয়েল। তবে তিনি বলেন, নর্থ সি’তে নতুন তেল ও গ্যাস উত্তোলন নিয়ে আগের সরকারের অবস্থানই বহাল থাকবে। লেবার পার্টির ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে নতুন কোনো তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান লাইসেন্স না দেয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে আগে দেয়া লাইসেন্স বহাল রাখার কথাও বলা হয়। এর মধ্যে স্কটল্যান্ডের রোজব্যাংক ও জ্যাকডো তেল-গ্যাসক্ষেত্রও রয়েছে। যদিও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর ২০২৫ সালে আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে প্রকল্প দু’টির অনুমোদন বাতিল করা হয়। পাওয়েল আরও বলেন, সরকার প্রয়োজনে টেমস ওয়াটারের মতো সংকটে থাকা পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নেয়ার ক্ষমতা রাখে। তিনি স্কাই নিউজকে বলেন, সরকার সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে কিনা- এখন সেটাই দেখার বিষয়।
