মায়ামির ফ্লোরিডায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-৪ গোলের পাগলাটে ম্যাচে যখন ফ্রান্সের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো, তখন কিলিয়ান এমবাপ্পের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ফুটবলের ইতিহাসের অমর এক কীর্তি। থ্রি লায়নদের বিপক্ষে মহানাটকীয় ম্যাচে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসে যান ফরাসি অধিনায়ক। বিশ্বমঞ্চে এমবাপ্পের ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা এখন ২২টি, যেখানে ফাইনালের আগ পর্যন্ত এক গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে আছেন মেসি (২১)।
প্রথমার্ধে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে একপ্রকার ছিটকে যাওয়া ফ্রান্সকে দ্বিতীয়ার্ধের ৪৮ মিনিটে প্রথম গোল করে ম্যাচে ফেরান এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে আসরে নিজের ৯ম গোল করে তিনি মেসির পাশে বসেন। এরপর ৬৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যান ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। কেবল বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাই নন, একই সঙ্গে চলতি আসরে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও মেসিকে (৮) দুই গোলের ব্যবধানে পেছনে ফেলে দেন তিনি।
১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির কিংবদন্তি গার্ড মুলারের পর এমবাপ্পেই প্রথম পুরুষ ফুটবলার, যিনি বিশ্বকাপের একক কোনো আসরে দুই অঙ্কের কোটা ছুঁলেন। এই বিশ্বকাপে ১০ গোল ও ৪ অ্যাসিস্টসহ মোট ১৪টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন এমবাপ্পে, যা গত ৬০ বছরের ইতিহাসে একক কোনো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। তবে এমন বিশ্বরেকর্ড গড়ার দিনে অনুমিতভাবেই ম্যাচ শেষে এমবাপ্পের কণ্ঠে ঝড়লো চরম হতাশা। ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম সবার ওপরে তোলার চেয়ে ট্রফি ছোঁয়ার রাখার মঞ্চে থাকতে না পারার আফসোসটাই তাকে বেশি পোড়াচ্ছে।
ফক্স স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার চেয়ে আমি আজ ফাইনাল ম্যাচটা খেলতে পারলে বেশি খুশি হতাম। লিগ্যাসি বা অবসরের পর মূল্যায়নের জন্য এই রেকর্ড অবশ্যই দারুণ। তবে রেকর্ডের চেয়ে আমি ফাইনাল খেলাটাকেই বেশি অগ্রাধিকার দিতাম।’ মেসির গোল করার ক্ষমতা নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘লিও সব সময়ই গোল করে। ফাইনালে ও গোল করবে, এটা নিশ্চিত।’ ২০১৮ সালে তরুণ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বজয় করা এমবাপ্পে ২০২২ সালে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে গোল্ডেন বুট জিতে নেন। যদিও মেসির আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায় ফ্রান্স।
