টেনেও নামাতে পারছিলেন না ফিফা প্রেসিডেন্ট

বিশ্বকাপের মঞ্চে ট্রাম্পের কাণ্ড

টেনেও নামাতে পারছিলেন না ফিফা প্রেসিডেন্ট

ফন্ট সাইজ:

১৬ বছর পর আরেকবার বিশ্বজয়ের স্বাদ। শিরোপা উঁচিয়ে স্প্যানিশদের যখন বাঁধভাঙা উল্লাস, ঠিক তখনই মঞ্চের এক কোণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ আটকে গেল এক অদ্ভুত দৃশ্যে। স্পেনের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের মহাকাব্যিক মুহূর্তটিকে ছাপিয়ে আচমকাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রফি হস্তান্তরের পর পডিয়াম ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। শেষ মুহূর্তে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিজে দৌড়ে গিয়েও ট্রাম্পকে টেনে নামাতে ব্যর্থ হন। খেলোয়াড়দের উদযাপনের মাঝেই দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের ১-০ গোলের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় স্পেন। আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ভেঙে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরে লা রোহারা। তবে ম্যাচের পর সব আলো যেন কেড়ে নেয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ট্রফি তুলে দিতে ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যৌথ আয়োজক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে উপস্থিত ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে শুরুতেই দর্শকদের তীব্র দুয়োধ্বনি শুনতে হয়। মাঠের পরিবেশের চেয়েও নাটকীয়তা জমে ওঠে ট্রফি দেয়ার পর।

স্পেন অধিনায়ক রদ্রি যখন সতীর্থদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী ট্রফি লিফটের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন মঞ্চ থেকে সরে যাওয়ার পরিবর্তে ক্যামেরার একদম সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন ট্রাম্প। একপর্যায়ে ইনফান্তিনো দৌড়ে গিয়ে তাকে মঞ্চ ছেড়ে পাশে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তা পুরোপুরি উপেক্ষা করেন তিনি।

উল্টো সেখানে দাঁড়িয়েই নিজের পরিচিত ড্যান্স মুভ দিতে শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যা দেখে ইনফান্তিনো এক অস্বস্তিকর হাসির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। এর আগে গত বছর চেলসির ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের পর একইভাবে মঞ্চে থেকে যাওয়ার নজির গড়েন ট্রাম্প।

পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্পের এমন রাজনৈতিক সার্কাস ও খামখেয়ালি আচরণে বেশ ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা। আমেরিকার মাটিতে হওয়া প্রথম কোনো বিশ্বকাপ ফাইনালে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি ইতিহাস গড়লেও, তার এই ‘ফটোগ্রাফি ক্র্যাশ’ স্পেনের সোনালী মুহূর্তটিকে কিছুটা হলেও ম্লান করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মাঠের লড়াইয়ে ফেররান তোরেসের জয়সূচক গোল কিংবা লিওনেল মেসির হৃদয়ভাঙা কান্নার মতো সমানভাবে এখন বিশ্বজুড়ে জোর আলোচনা চলছে ট্রাম্পের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অদ্ভুত কাণ্ড নিয়ে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন