আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের পর তীব্র সমালোচনা, এমনকি ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে গ্যালারির একাংশ থেকে ভেসে আসা দুয়ো- সবকিছুর জবাব মাঠেই দিলেন থমাস টুখেল। ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করার পর বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ও সমালোচকদের ধুয়ে দিয়েছেন এই জার্মান কোচ। একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট শেষেই ইঙ্গিত দিয়েছেন থ্রি লায়নদের ডাগআউটে নিজের ভবিষ্যতের ‘নেক্সট স্টেপ’ বা পরবর্তী পদক্ষেপের। মায়ামি স্টেডিয়ামে অবিশ্বাস্য এক গোলবন্যার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন টুখেল।
সেমিফাইনালের বিদায় নিয়ে অতি-নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, গতকালের প্রেস কনফারেন্সে মনে হচ্ছিল আমরা কোনো ম্যাচ না জিতে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছি। অথচ তার ২৪ ঘণ্টা পরই আমরা গত ৬০ বছরের মধ্যে আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য (দেশের বাইরে প্রথম বিশ্বকাপ মেডেল) পেলাম। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যা ঘটেছে, তা নিয়ে নাটকীয়তা আর সমালোচনার স্তরটা বড্ড বেশি নিচে নেমে গিয়েছিল।’ সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তার স্পষ্ট বার্তা, ‘সবচেয়ে ভালো কাজ হলো মাঠে প্রতিক্রিয়া দেখানো এবং জয় ছিনিয়ে আনা। বাকি সবকিছুই স্রেফ মুখের কথা, যা আপনাকে কোনো পয়েন্ট বা জয় এনে দেবে না।’
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে ১-০ তে এগিয়ে থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয়া এবং ভুল খেলোয়াড় পরিবর্তনের কারণে ওয়েইন রুনি, গ্যারি লিনেকারদের মতো সাবেক ইংলিশ তারকারা টুখেলের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
সেই ট্যাকটিক্যাল ‘ব্লান্ডার’ নিয়ে নিজের দায় স্বীকার করলেও কোচের ওপর সমর্থকদের আস্থা হারানোর দাবি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। টুখেল বলেন, ‘আমি মনে করি না আমি বিশ্বাস হারিয়েছি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ৩০ মিনিটে আমার সিদ্ধান্ত, কৌশল বা খেলোয়াড় পরিবর্তন কাঙ্ক্িষত ফল দেয়নি। এটা আমার জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, কারণ আমি একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে সৎ উদ্দেশ্যেই সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছিলাম। যেহেতু তা কাজে আসেনি, তাই এর সব দায় ও দায়িত্ব আমি নিজের কাঁধেই নিচ্ছি।’ ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েও দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণভাগের তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া টুখেলের কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ম্যাচ শেষে ব্রোঞ্জ মেডেল গলায় ঝুলিয়েই এই জার্মান মাস্টারমাইন্ড জানিয়ে দিয়েছেন, তার চোখ এখন সামনে।
আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর ওয়েম্বলিতে স্পেনের বিপক্ষে ন্যাশনস লীগের ম্যাচ দিয়েই ফুটবলারদের রক্ষণাত্মক ভুলত্রুটি শুধরে নতুন মিশন শুরু করতে চান তিনি। টুখেল আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফুটবলে আপনাকে প্রতিদিন বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। আর মাত্র সাত-আট সপ্তাহ পরেই আমরা ন্যাশনস লীগের জন্য আবার একসঙ্গে হচ্ছি। হাই-লেভেল স্পোর্টে এটিই স্বাভাবিক যে, প্রতিবার মাঠে নামার সময় আপনাকে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। এই ব্রোঞ্জ আমাদের নিশ্চিতভাবেই সাহায্য করবে। যদিও আপনি ব্রোঞ্জ মেডেল নিয়ে কখনোই পুরোপুরি মেতে উঠতে পারবেন না।’
