বিশ্বকাপের হতাশায় তারকা থেকে দল বাদ যায়নি কেউ

বিশ্বকাপের হতাশায় তারকা থেকে দল বাদ যায়নি কেউ

ফন্ট সাইজ:

সব বিদায়ের গল্প সমান নয়। কারও জন্য এবারের বিশ্বকাপ আনন্দের আবার কারও কপালে জুটেছে ব্যর্থতা। ক্রীড়া সাময়িকী স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেডের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দেখে নেয়া যাক ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় দশ হতাশা-

পর্তুগাল ও রোনালদোর বিদায়
হয়তো পর্তুগালের জার্সিতে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপেই খেলতে নেমেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ২০৩০ সালে তার বয়স হবে ৪৫ বছর। ওই বয়সে জাতীয় দলে খেলাটা সহজ নয়। তাই সুযোগ ছিল এবারের বিশ্বকাপের ট্রফি জেতার। কিন্তু আইবেরীয় প্রতিবেশী স্পেনের কাছে রাউন্ড অব সিক্সটিন খেলে বিদায় নেয় পর্তুগাল। হারের পর ব্রুনো ফার্নান্দেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘দুঃখিত, হতাশ এবং হতাশ।’ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দারুণ একটি মৌসুম পার করে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছিলেন। পর্তুগালের স্কোয়াডও ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী। বিশ্বকাপ শুরুর আগে র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা চারে না থাকলেও রোনালদোর হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখলে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। কিন্তু কোচ রবার্তো মার্টিনেজের অতিরিক্ত রোনালদো নির্ভরতাই কাল হলো পর্তুগালের জন্য। নবাগত উজবেকিস্তানকে হারালেও ডিআর কঙ্গো এবং কলম্বিয়ার বিপক্ষে ড্র করতে হিমশিম খেয়েছে তারা। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রাউন্ড অব থার্টি টুতে গঞ্জালো রামোস অতিরিক্ত সময়ে গোলে শেষ ষোলোয় পা রেখেছিল তারা। অথচ পিএসজি স্ট্রাইকার রামোসই স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পাননি।

ক্রিস্টিয়ান পুলিসিকের ব্যর্থতা
ক্যাপ্টেন আমেরিকা পুলিসিককে ঘিরে বড় স্বপ্নই দেখেছিল মার্কিনিরা। কিন্তু চোট আর ফর্মহীনতায় পুরো টুর্নামেন্টেই ছাপ রাখতে পারেননি। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের দুই দিন আগে পায়ের ইনজুরিতে পড়ার পর তিনি ম্যাচের শুরুতেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তৃতীয় ম্যাচ থেকে ফিরে এসে পুলিসিচ নকআউটের দুই ম্যাচেই শুরু থেকে খেলেছেন। কিন্তু একটি গোল বা অ্যাসিস্টও করতে পারেননি। ফোলারিন বালোগুনের বিপর্যয়ের আগ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যাত্রায় কোনো অবদান না রাখতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত পায়ে আরেকটি ইনজুরি নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান।

মলিন বিদায় যাদের
লুকা মদরিচ, নেইমার জুনিয়র, ম্যানুয়েল নয়্যার- ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে এই তারকারা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। নেইমার চোট নিয়েই টুর্নামেন্ট খেলতে আসেন। বদলি হিসেবে মাত্র দু’বার মাঠে দেখা গেছে। চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি পেনাল্টিতে বিদায় নেয় প্যারাগুয়ের কাছে। ব্যর্থ হন নয়্যারও। মদ্রিচ কিছুটা আশা দেখালেও পর্তুগালের বিপক্ষে জ্বলে উঠতে পারেননি।

স্কটল্যান্ডের হতাশাজনক পারফরম্যান্স
হাইতিকে হারিয়ে ১৯৯০ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ জয় পেলেও মরক্কো ও ব্রাজিলের বিপক্ষে একেবারেই গড়পড়তা পারফরম্যান্স দেখায় স্কটল্যান্ড। বিদায়ের পর দায়িত্ব ছাড়েন কোচ স্টিভ ক্লার্ক।

জার্মানির আরেকটি হতাশার আসর
একসময় বিশ্বকাপ মানেই ছিল জার্মানির অনিবার্য সাফল্য। চারবারের চ্যাম্পিয়নরা প্রায়ই টুর্নামেন্টের ‘ডার্থ ভেডার’ হিসেবে আবির্ভূত হতো। দীর্ঘকাল প্রচলিত ছিল , ‘জার্মানদের কখনোই বাদ দেয়া যায় না।’ কিন্তু প্রথম ম্যাচে নবাগত কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলে জয়ের ম্যাচেও তাদের দুর্বলতা দেখা গেছে। টানা তৃতীয়বারের মতো গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় না নিলেও ২০১৪ সালের ফাইনালের পর থেকে নকআউট পর্বে কোনো জয় পায়নি জার্মানি। এবার প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টিতে হেরে বিদায় নেয় তারা। যা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম পেনাল্টি শুটআউট পরাজয়। দেশটির ফেডারেশন ইউর্গেন ক্লপকে দল পুনর্গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে।

ফিফা ও ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক
টিকিট মূল্য আকাশচুম্বী করে ভক্তদের হাজার হাজার ডলার খরচ করতে বাধ্য করা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। স্পনসরদের খুশি করতে অতিরিক্ত গরমের অজুহাতে হাইড্রেশন ব্রেক দিয়ে ফের সমালোচনায় পড়েন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে সাড়া দিয়ে ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন। এতে টুর্নামেন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর দ্বারপ্রান্তে ফিফা-এমন শিরোনামে খবর ছেপেছিল দ্য গার্ডিয়ান।

আনচেলোত্তির কৌশলগত ভুল
ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপর ভরসা রেখেছিলেন অনেকে। কিন্তু নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে নেইমারকে মাঠে রেখে ও ব্রুনো গিমারায়েসকে তুলে নেয়ার সিদ্ধান্তই ডেকে আনে বিপর্যয়। আর্লিং হালান্দের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল।

নিষ্প্রভ সন হিউং মিন
দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা সন হিউং-মিনের কাছ থেকে ভালো কিছুর প্রত্যাশা ছিল। বিশেষ করে দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ ছিল তার। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে একটি গোলও করতে পারেননি তিনি। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় এশিয়ার দলটি।

ভিএআর নিয়ে বিতর্ক
গ্রুপ পর্বে রেফারিং নিয়ে খুব একটা বিতর্ক ছিল না, কিন্তু নকআউট পর্বে রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। লিওনেল মেসিকে লাল কার্ড না দেয়া নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রতি সুবিচারের অভিযোগ উঠেছে। মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে মোস্তফা জিকোর গোল বাতিল করা হয় ১৭ সেকেন্ড আগের একটি ফাউলের কারণে। ইংল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি বাতিল করা হয়। বড় টুর্নামেন্টে ভিএআরের দক্ষতা প্রশংসা পেলেও এবারের বিশ্বকাপে সেটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন