ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু ৬-৪ গোলের অবিশ্বাস্য এক জয়-পরাজয়ের গল্পই লেখেনি। বরং মায়ামি স্টেডিয়ামে জন্ম দিয়েছে অজস্র ঐতিহাসিক রেকর্ডের। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর এই ১০ গোলের ব্লকবাস্টার ম্যাচের মূল রেকর্ড ও পরিসংখ্যানগুলো মানবজমিন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
১০: এই ম্যাচে দুই দল মোট ১০টি গোল করেছে, যা ১৯৮২ সালের (হাঙ্গেরি ১০-১ এল সালভাদর) পর বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। পাশাপাশি ১৯৫৮ সালের রেকর্ড (ফ্রান্স ৬-৩ পশ্চিম জার্মানি) ভেঙে এটিই এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। পুরো বিশ্বকাপের ইতিহাসে কেবল চারটি ম্যাচে এর চেয়ে বেশি গোল হয়েছে।
২২: এই ম্যাচ পর কিলিয়ান এমবাপ্পে এখন বিশ্বকাপে নিজের ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ২২-এ। এর মাধ্যমে তিনি লিওনেল মেসিকে (২১) টপকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসলেন। যদিও গতকালের ফাইনালে লিওনেল মেসি এই রেকর্ডটি পুনরুদ্ধার করতে পারলো কি না, তা এতক্ষণে নিশ্চয়ই জেনে গেছেন।
১০: এই ম্যাচ পর চলতি আসরে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার উপরে এমবাপ্পে। এর মাধ্যমে তিনি এক বিশ্বকাপে দুই অঙ্কের গোলছোঁয়া ইতিহাসের চতুর্থ খেলোয়াড় হলেন এবং ১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির গার্ড মুলারের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন।
১৪: এবারের আসরে ১০টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্টসহ মোট ১৪টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন এমবাপ্পে। এটি গত ৬০ বছরের ইতিহাসে একক কোনো বিশ্বকাপে যেকোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ অবদান।
০/৩: ক্যারিয়ারে তিনটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেললেও সেখানে কোনো গোল পাননি এমবাপ্পে। অথচ গ্রুপ পর্ব, শেষ ৩২, শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ও ফাইনাল- বিশ্বকাপের বাকি সব মঞ্চে গোল করার অনন্য কীর্তি আছে ফরাসি অধিনায়কের।
৩: ইংল্যান্ড ফুটবল ইতিহাসে এবারই প্রথম বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জন করলো। এর আগে ১৯৯০ সালে ইতালি এবং ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হারে থ্রি লায়নরা। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই তাদের সেরা বৈশ্বিক সাফল্য।
৭: ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জুড বেলিংহ্যাম চলতি বিশ্বকাপে নিজের সপ্তম গোলটি করেন, যা এক বিশ্বকাপে কোনো ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। বেলিংহ্যামের এই ৭টি গোলের সবকটিই এসেছে ওপেন প্লে থেকে, যা পেনাল্টি ছাড়া এক আসরে গ্যারি লিনেকারের (৬ গোল) রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
৪: ম্যাচে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে বুকায়ো সাকা ইতিহাসের চতুর্থ ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়লেন। এর আগে জিওফ হার্স্ট (১৯৬৬), গ্যারি লিনেকার (১৯৮৬) ও হ্যারি কেইন (২০১৮) ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেন।
৭: ফরাসি ফরোয়ার্ড মাইকেল ওলিসে এই বিশ্বকাপে মোট ৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন। এর মাধ্যমে ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের করা ৬টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভেঙে গত ৬০ বছরের ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মালিক এখন ওলিসে।
৫: এই বিশ্বকাপে ওলিসের ৭টি অ্যাসিস্টের মধ্যে ৫টি থেকেই গোল করেছেন এমবাপ্পে। গত ৬০ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে যেকোনো দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ গোল কম্বিনেশন।
২: ২০১০ সালের বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারার পর, এই প্রথম বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচ হারলো ফ্রান্স।
২৬: দিদিয়ের দেশম ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের ১৪ বছরের অধ্যায়ের শেষ ম্যাচটি পরিচালনা করলেন। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ২৬তম ম্যাচ, যা হেলমুট শনকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো কোচের সর্বোচ্চ ম্যাচ পরিচালনার নতুন রেকর্ড।
২.৯৮: মায়ামির এই ম্যাচের ১০টি গোলসহ চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১০৩ ম্যাচে মোট ৩০৭টি গোল হয়েছে। ফলে ২.৯৮ গোল গড় নিয়ে এটি ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ গোল গড় দেখার বিশ্বকাপ হিসেবে ফুটবল ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে।
৪: ফ্রান্স ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৪টি গোল হজম করেছে, যা গত ৫৮ বছরের মধ্যে তাদের ইতিহাসে প্রথম। এর আগে ১৯৬৮ সালের এপ্রিলে ইউরো কোয়ালিফায়ারে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৪ গোল খায় ফরাসিরা।
১+১: ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে ডেকলান রাইস। প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এই অনন্য নজির গড়লেন তিনি।
মায়ামি থ্রিলারে রেকর্ডের ছড়াছড়ি
স্পোর্টস ডেস্ক
২০ জুলাই (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
