শেষ ওভারের রুদ্ধশ্বাস নাটক পেরিয়ে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। বুলাওয়ের কুইনস স্পোর্টস ক্লাবে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৪ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিলো তাওহিদ হৃদয়ের দল। টস জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামে জিম্বাবুয়ে। দলীয় ৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। শেখ মেহেদির বলে সাজঘরে ফেরেন মারুমানি। এরপর ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মায়ার্সের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। বেনেট করেন ৩৮ বলে ৪৭ রান। মায়ার্স খেলেন ৫৩ বলে ৭৩ রানের ইনিংস। দু’জনের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৩ রান করে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নেন ২ উইকেট। ১৪৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের।
ইনিংসের পঞ্চম বলেই ফেরেন সাইফ হাসান। তবে এরপর দলের হাল ধরেন তানজিদ হাসান। পুরো ইনিংস জুড়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে অপরাজিত থাকেন তিনি ৫৮ বলে ৬৬ রানে। তার ইনিংসে ছিল ৪ ছক্কা ও ১ চার। পারভেজ হোসেন ইমন করেন ২২ বলে ২৪ রান। অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে ১৯ বলে ২৪ রান। জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র ৫ রান। কিন্তু প্রথম তিন বলেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। চতুর্থ বলে মেহেদী হাসানের প্যাডে বল লাগলেও ফিল্ডারের অবৈধ নড়াচড়ার কারণে আম্পায়ার ডেড বল ঘোষণা করেন। পরের বলেই চার মেরে ম্যাচের ইতি টানেন মেহেদী। ২ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। চোটের কারণে এই ম্যাচে ছিলেন না নাহিদ রানা (সাইড স্ট্রেন) ও বাদ পড়েন নুরুল হাসান।
তাদের জায়গায় একাদশে সুযোগ পান আবদুল গাফফার ও মোসাদ্দেক হোসেন। এই জয়ে ভুলে যাওয়ার মতো এক সফরে কিছুটা স্বস্তি পেল বাংলাদেশ। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হারের পর টি-টোয়েন্টিতেও প্রথম ম্যাচ হেরেছিল দল। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে শেষ ম্যাচে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিল টাইগাররা। টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩ ম্যাচে ১৪৪ রান করেছেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। সেই সঙ্গে তৃতীয় ম্যাচে ফিফটি করে ছুঁয়েছেন সাকিব আল হাসানের রেকর্ড। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি দুজনই ১৩ ফিফটি পেয়েছেন। সাকিবের চেয়ে ৭৬ ম্যাচ কম খেলে এ রেকর্ড ছুলেন তামিম। হন ম্যাচ ও সিরিজসেরা। সিরিজ জয়ের পর তামিম বলেন, ‘সবার আগে আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সিরিজ জিতেছি। অনুভূতিটা সত্যিই অসাধারণ। আমার মনে হয় আমাদের বোলাররা দারুণ কাজ করেছে। এই উইকেটে তারা খুব নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছে। এই পিচে প্রথম ছয় ওভার ব্যাটিং করা সহজ ছিল না। তাই আমার লক্ষ্য ছিল বড় জুটি গড়া এবং যত বেশিক্ষণ সম্ভব ক্রিজে টিকে থাকা।
আমি খুব বেশি জোরে মারার চেষ্টা করিনি, বরং বল দেখে মেধা অনুযায়ী খেলার দিকেই মনোযোগ দিয়েছিলাম। এটাই ছিল আমার ব্যাটিংয়ের মূল মন্ত্র। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারার পর শেষ ম্যাচে জয় পাওয়াটা দলের জন্য অনেক বড় স্বস্তির। আমি আশা করি দলের সবাই এই জয়টা উপভোগ করছে। শেষ ওভারে নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকাটা কোনো সমস্যা ছিল না। আমি নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছিলাম। আমার বিশ্বাস ছিল, শেষ পর্যন্ত উইকেটে টিকে থাকতে পারলে ম্যাচটা আমি সহজেই শেষ করতে পারবো। সেই পরিস্থিতিকে আমি সেভাবেই দেখেছি।’
