মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশন (এমসিএমসি) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে মালয়েশিয়ার সাবাহ প্রদেশের তাওয়াউতে ড্রোনের মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহের একটি পাইলট (পরীক্ষামূলক) প্রজেক্ট শুরু করতে যাচ্ছে দেশটি। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের দিকে এই প্রকল্প চালু হবে, যা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে ন্যাশনাল ইনফরমেশন ডিসেমিনেশন সেন্টারের (নাদি) কার্যক্রমকে আরও সুদূর প্রসারিত করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা সূত্রে জানাগেছে, মালয়েশিয়ার কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশন (এমসিএমসি) -এর ন্যাশনাল ইনফরমেশন ডিসেমিনেশন সেন্টারের প্রধান ড. মোহদ আরিফ আদেনান জানিয়েছেন, 'নাদি স্মার্ট সার্ভিসেস' কর্মসূচির আওতাধীন এই উদ্যোগের ফলে প্রায় ১২টি গ্রামের বাসিন্দারা উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের যেসব মানুষ নিয়মিত ওষুধ সংগ্রহ করতে সমস্যার সম্মুখীন হন, এটি তাদের জন্য অনেক উপকারী হবে। বারনামাকে তিনি বলেছেন, "বিশেষ করে হাসপাতাল থেকে দূরে বসবাসকারী রোগীদের জন্য এটি দারুণ কাজে আসবে।"
ড. আরিফ আরও উল্লেখ করেন, ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সাবাহ (ইউএমএস)-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাবাহর প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য প্রায়শই ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। ফলে যাতায়াতের খরচ সেখানে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি যদি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়, তবে এমসিএমসি একই ধরনের চাহিদা সম্পন্ন অন্যান্য এলাকাতেও এই উদ্যোগটি সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
নিরাপদ ও মসৃণ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব মালয়েশিয়া (সিএএএম), সাবাহ প্রাদেশিক সরকার এবং আরও কয়েকটি সংস্থার সাথে একটি সমন্বিত সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে বারনামা।
ড. আরিফ বারনামাকে আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে পোস্ট অফিস(পোস) মালয়েশিয়ার মাধ্যমে ডাকযোগে ওষুধ সরবরাহের সুবিধা চালু রয়েছে, যেখানে স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য ওষুধ সংগ্রহের ওয়ান-স্টপ সেন্টার হিসেবে কাজ করছে নাদি।
ড্রোনের মাধ্যমে ওষুধ প্রদানের ফলে হাসপাতালগুলোতে ভিড় কমানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা ন্যাশনাল ইনফরমেশন ডিসেমিনেশন সেন্টারগুলোতে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিষেবাও প্রদান করে থাকি, যা রক্তচাপ মাপার মতো সাধারণ চেকআপের জন্য বারবার হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়। যদি কোনো রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অস্বাভাবিক রিপোর্ট আসে, তবে এই সেন্টারগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের অধিকতর মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। এই উদ্যোগটি যাতায়াতের খরচ কমানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ভিড় কমাতেও সাহায্য করে।
তিনি আরও জানান, ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) থেকে পাওয়া আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি— যার মধ্যে রয়েছে গত বছর জেনেভায় ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) পুরস্কার লাভ এবং এই বছর ১৬তম আইটিইউ ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন সেন্টার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া— বৈশ্বিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা যেমন সিসকো এবং হিউলেট প্যাকার্ড (এইচপি)-এর সাথে যৌথভাবে আরও মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল কোর্স চালু করার পরিকল্পনা করছে ন্যাশনাল ইনফরমেশন ডিসেমিনেশন সেন্টার (নাদি)। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা, বিশেষ করে গ্রামীণ তরুণেরা, শিল্প-স্বীকৃত সনদ অর্জন করে নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়াতে সক্ষম হবে বলে তিনি যোগ করেন।
ড্রোন শিল্পের যুগান্তকারী পদক্ষেপ
ড্রোনে করে ওষুধ বিতরনের পাইলট প্রকল্প শুরু করছে মালয়েশিয়া
স্টাফ রিপোর্টার, মালয়েশিয়া থেকে
অনলাইন
১১ ঘন্টা আগে
১৯ জুলাই (রবিবার), ২০২৬, ১২ঃ৫৫ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
