সিলেটে পুলিশ কমিশনার কার্যালয় ঘেরাও ছাত্রদলের

সিলেটে পুলিশ কমিশনার কার্যালয় ঘেরাও ছাত্রদলের

ফন্ট সাইজ:

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিলের প্রতিবাদে সিলেট পুলিশ কমিশনার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদল। প্রায় একঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভে তারা ছাত্রলীগ, যুবলীগের দালাল পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান। শনিবার দুপুরে নগরের উপশহরের পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বেরিয়ে এসে মিছিলকারীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস প্রদান করলে ছাত্রদল কর্মীরা চলে যান। শুক্রবার ভোরে সিলেট নগরের বালুচর এলাকায় মিছিল করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগে কর্মীরা। স্থানীয়রা জানান, সকাল ৭টার দিকে ছাত্রলীগের একদল কর্মী বালুচর এলাকা থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি টিবি গেট এলাকা পর্যন্ত এসে শেষ হয়।

অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ কর্মী এ মিছিলে অংশ নেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছার আগেই ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল শেষ করে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পলাতক থাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলামের অনুসারীরা এ মিছিলে অংশ নেয়। বালুচর এলাকায় ছাত্রলীগের কর্মীদের অবস্থান রয়েছে। পাশের টিলাগড় এলাকায়ও এখনো কর্মীরা রয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারী অনেকেই ওইসব এলাকায় অবস্থান করছিল। তবে মিছিলের পর থেকে তাদের আর ওই এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এদিকে মিছিলের পরপরই এলাকায় অবস্থান নেয় পুলিশের একাধিক টিম। তারা বালুচরসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালালেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে তাদের মিছিলের ভিডিও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। এমন ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনার জন্য তারা মাঠপর্যায়ের পুলিশের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। এদিকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে নগরের উপশহরের পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্র্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেয় ছাত্রদলের দু’টি ইউনিটের সিনিয়র নেতারা। তারা পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে সেখানে বসে তারা স্লোগানও দেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানানে, নিষিদ্ধ সংগঠন হওয়ার পরও ছাত্রলীগের কর্মীদের প্রকাশ্যে এ মিছিল প্রমাণ করে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ওই সংগঠনের কর্মীদের সখ্যতা রয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দালাল পুলিশ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। এ সময় নগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে আহসান রাব্বি সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার ছাত্রলীগের এ মিছিল প্রমাণ করে পুলিশের ব্যর্থতা রয়েছে। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও ওরা মিছিল করার সাহস কোথায় পায় সেটিই এখন জিজ্ঞাসা।

তিনি ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা তো দিনের বেলা প্রকাশ্যেই মিছিল করেছি। লুকিয়ে, চোরাইভাবে কোনো মিছিল করিনি। তারা ভোর বেলা মিছিল দেয়। ওই সময় মানুষ থাকে না। যদি সাহস থাকে তাহলে প্রকাশ্যে দিনের বেলা মিছিল করার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘দেখা না দিলে বন্ধু কথা কইও না। দেখা না দিয়ে চলে যাওয়া তো বীরত্বের কাজ নয়, এটা কাপুরুষের কর্মকাণ্ড।’ ছাত্রদলের বিক্ষোভের সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সেখানে আসেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ডিআইজি পদোন্নতি প্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হক। তিনি সাংবাদিকের বলেন, অনেকটা নীরব সময়ে নিষিদ্ধ এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করেছে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। তিনি বলেন, যারাই এসব কর্মকাণ্ড করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাজী দিনার আহমদ জানান, পুলিশ কমিশনার আশ্বস্ত করেছেন তারা সক্রিয় থাকবেন। তাদের কথায় আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। আশা করি পুলিশ সন্ত্রাসীদের রুখতে কাজ করবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন