নাগরিক সেবায় ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ চালু

নাগরিক সেবায় ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ চালু

ফন্ট সাইজ:

নাগরিক সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামে ওয়ান স্টপ সিটিজেন সার্ভিস মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপ চালু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অ্যাপটির উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) তহবিলের অর্থায়নে এবং ভেনটো টেকের প্রযুক্তিগত সহায়তায় অ্যাপটি তৈরি হয়েছে। নতুন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে নগরবাসী ঘরে বসেই বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা জানাতে, অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং ধাপে ধাপে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মেয়র বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে নাগরিক সেবাকে মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেয়া সময়ের দাবি। ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ শুধু একটি অ্যাপ নয়, এটি নগরবাসী ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে একটি ডিজিটাল সংযোগ তৈরি করবে। তিনি জানান, অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা রাস্তা, জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব, ময়লা-আবর্জনা, সড়কবাতি, নর্দমাসহ ১০টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন সমস্যা ছবি ও লোকেশনসহ সরাসরি সিটি করপোরেশনকে জানাতে পারবেন। অভিযোগ গ্রহণের পর সেটি কোনো পর্যায়ে রয়েছে, কাজ চলমান নাকি সমাধান হয়েছে- তাও রিয়েল-টাইমে দেখা যাবে। মেয়র আরও বলেন, অ্যাপটিতে জরুরিসেবা, মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি অফিসার ড্যাশবোর্ড, ওয়ার্ডভিত্তিক হিট ম্যাপ ও স্বয়ংক্রিয় টিকিটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন এলাকায় কী ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে, তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হবে। তিনি নগরবাসীকে গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোর থেকে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ ডাউনলোড করে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গঠনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, মেয়রের উদ্যোগেই অ্যাপটির বাস্তবায়ন হয়েছে। অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি নাগরিকরা উন্নয়ন সংক্রান্ত পরামর্শ, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতামতও এই প্ল্যাটফরমে দিতে পারবেন। এ জন্য অ্যাপে পোলিং সিস্টেমও সংযোজন করা হয়েছে। তিনি জানান, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, ওয়ার্ড অফিসের বিভিন্ন সনদ এবং অন্যান্য নাগরিক সেবা পর্যায়ক্রমে অনলাইনে যুক্ত করা হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য, হাসপাতালের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক তথ্যও ধাপে ধাপে সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা সংযুক্ত করা হবে। এসব ক্যামেরা রাস্তার পাশে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকা ময়লা, জলাবদ্ধতা কিংবা অন্যান্য সমস্যা শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিযোগ হিসেবে সিস্টেমে পাঠাবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ অধিকাংশ সেবা সম্পূর্ণ অনলাইনে চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

চসিক সূত্র জানায়, এই ডিজিটাল প্ল্যাটফরম বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি। পুরো প্রকল্পটি ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের সিএসআর তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, রাজনীতিবিদ আবুল হাশেম বক্কর, চসিকের বিভাগীয় প্রধান, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রযুক্তিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন