খোয়াই নদীর বাঁধ মেরামতে কচ্ছপ গতি

খোয়াই নদীর বাঁধ মেরামতে কচ্ছপ গতি

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের খোয়াই নদীর ভয়াবহভাবে ভেঙে যাওয়া কালীগঞ্জ, আলাপুর বাঁধ মেরামতে ৮২ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ধীরগতির এই কাজের আড়ালে অনিয়ম ও নয়-ছয়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। ফলে দ্রুত, স্বচ্ছ ও টেকসইভাবে বাঁধের মেরামত কাজ সম্পন্ন করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকে ভেঙে যাওয়া কালীগঞ্জ বাঁধের জরুরি মেরামত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পের জন্য ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাঁধ পুনর্নির্মাণে জিওব্যাগ, বালুভর্তি ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় পরিমাণ মাটি ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে কাজ শুরু হওয়ার তিনদিন অতিবাহিত হলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি সীমিত। এলাকাবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে বাঁধটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময় স্থানীয়রা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অবশেষে চলতি মাসের ভারীবর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল চাপে বাঁধটি ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই লস্করপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, যেভাবে ধীরগতিতে কাজ চলছে, তাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের দাবি, বরাদ্দকৃত অর্থের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজের প্রতিটি ধাপ নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন।

একইসঙ্গে কাজের মান যাচাই এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। উল্লেখ্য, গত ৯ই জুলাই রাত প্রায় ৮টার দিকে টানা ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের চাপে খোয়াই নদীর লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাঁধ ভয়াবহভাবে ভেঙে যায়। এতে লস্করপুর, রিচি ও তেঘরিয়া ইউনিয়নসহ অন্তত তিনটি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে শত শত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ভেঙে যায় সড়ক ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। তলিয়ে যায় হাজার হাজার একর আউশ ধান, শাকসবজির ক্ষেত, মাছের ঘের ও গবাদিপশুর খামার। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, ভেঙে যাওয়া কালীগঞ্জ বাঁধের জরুরি মেরামত কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৮২ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা জিওব্যাগ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহার করে দ্রুত এবং টেকসইভাবে বাঁধটি মেরামতের সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন