লালমনিরহাটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের বেহাল। শিক্ষিকারা স্কুলে সন্তান ও নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। এ ছাড়া, ক্লাস রুমগুলোকেই বানিয়েছেন তাদের বসতবাড়ি। আবার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা আচরণে স্কুলে আসছে না শিক্ষার্থীরা। ফলে জেলায় বাড়ছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭৬৮টি। বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উপর বেশি জোর দিলেও মাঠ পর্যায়ে তদারকির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে সেই উদ্যোগ। ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেয়ার পরেও বাড়ছে না শিক্ষার মান।
জেলার অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকাই নানা অনিয়মে জড়িত। অনেক বিদ্যালয়ে সরজমিন দেখা গেছে, ক্লাস ছেড়ে শিক্ষক/শিক্ষিকারা ব্যস্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে। অনেক শিক্ষিকা স্কুলকেই বানিয়েছেন বেড রুম ও ডাইনিং রুম। এ ছাড়া, শিক্ষিকাদের সন্তান কোলে নিয়ে ব্যস্ত থাকে শিক্ষার্থীরা। সদরের খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের গুদামের চওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরজমিন দেখা গেছে, এটি কি আসলেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নাকি শিক্ষিকাদের বসতবাড়ি। বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে দেখা যায়, ক্লাস রুম শিক্ষিকারা বানিয়েছে ডাইনিং রুম। শিক্ষিকা তাজনিন ও চামেলী ক্লাস চলাকালে ক্লাস রুমেই খাবার খাচ্ছেন। অন্যদিকে, ভবনের উপরে উঠলে দেখা যায়, শিক্ষিকা জোমেনা বেগম ক্লাস ছেড়ে শুয়ে ঘুমিয়ে আছেন শিশু শ্রেণির ক্লাস রুমের ফ্লোরে।
এ ছাড়া, তিনি ঠিকঠাক ক্লাস না করে সারাদিন ব্যস্ত থাকেন সন্তান নিয়ে। জানা যায়, শিক্ষিকা জোমেনা ১৭ বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়ের বারান্দার সিঁড়িতে বানিয়েছে রান্নাঘর। সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে করছেন রান্নাবান্না। ওই বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেঘলা ক্লাস ছেড়ে শিক্ষিকা জোমেনা বেগমের সন্তান কোলে নিয়ে ঘুরছেন। মেঘলা জানান, ম্যাডামের সন্তানকে কোলে নিয়ে না বেড়ালে পরীক্ষায় নম্বর কম দেয়ার হুমকি দেয়। এ ছাড়া, বিদ্যালয়ের ছাদে কাপড় শুকানোরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষিকারা কোনো জবাব না দিলেও প্রধান শিক্ষক মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষিকাদের বারবার বারণ করার পরও তারা এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আমি বিষয়গুলো নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ করেছি। খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল মালেক সরকার জানান, ওই স্কুলের অনেক অভিযোগ শুনেছি। কিন্তু উপর মহলে বলেও কোনো প্রতিকার হয় না। শুধু লালমনিরহাটের খুনিয়াগাছ গুদামের চওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নয়, জেলার অধিকাংশ সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে দেখা গেছে একই চিত্র। অনেকেই অভিযোগ করেন, কর্মকতাদের সঠিক তদারকির অভাবে শিক্ষার মান কমে গেছে। জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো হয়ে পড়েছে অভিভাবকহীন। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মমিনুর ইসলাম জানান, শিক্ষকদের সতর্ক করা আছে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
