বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, বীজ, সার, গবাদিপশুর ভ্যাকসিনসহ সব ধরনের সহায়তা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছাতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’। শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সব ক্ষতি একসঙ্গে পুষিয়ে দেয়া সম্ভব না হলেও কৃষক ও খামারিদের দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বীজ, সার, গবাদিপশুর ভ্যাকসিন ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছেই পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা সহায়তা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার শতভাগ গবাদিপশুকে ক্ষুরা রোগ (এফএমডি) প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যেসব পশুর ছয় মাস আগে টিকা দেয়া হয়েছে, তাদেরও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পুনরায় টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি গবাদিপশুর মৃত্যু একজন খামারির জন্য বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ। তাই রোগ প্রতিরোধে দ্রুত ও কার্যকর ভ্যাকসিন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আপ্রু মারমা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
