সীমান্ত দিয়ে রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শুধু ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকই নয়, ভারতীয় নাগরিকদেরও বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় এমনই এক নারী রেশমা বিবির সন্ধান পাওয়া যায়। তার সঙ্গে রয়েছে একটি শিশু সন্তান। তিনি দেশে ফেরার উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছেন। রেশমা ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পাকুর জেলার মহেশপুর থানার খাগড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী রাজু শেখ ও বাবা বুলু শেখ। তিনি দুই সন্তানের জননী।
রেশমা জানান, তিনি ভারতীয় নাগরিক। জীবিকার তাগিদে মুম্বইয়ে একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সেখান থেকে ভারতীয় পুলিশ কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে তাকেও সন্তানসহ আটক করে। তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। পরে তাকে অন্যদের সঙ্গে বিমানে কলকাতায় নেয়া হয়। সেখান থেকে গভীর রাতে চট্টগ্রাম বিভাগের এক সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। বাংলাদেশে তার কোনো আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত না থাকায় তিনি বিপাকে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে বাসে তুলে বেনাপোলে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে তিনি স্বামী ও সন্তানের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য চেকপোস্ট এলাকায় ঘুরছেন। তার আরেক সন্তান মুম্বইয়ের একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে ও সেখানকার একটি হোস্টেলে থাকে। স্থানীয় সীমান্তবাসীরা বলেন, রেশমা প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় নাগরিক হলে তাহলে মানবিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে নিজ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুই দেশের কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ হোসেন বলেন, বিষয়টির সমাধান হয়তো বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হতে পারে। এ বিষয়ে মানবাধিকার সংস্থা রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, আমাদের কিছু করার নেই। এ বিষয়ে দু’দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান হওয়া প্রয়োজন। আইনি জটিলতা এড়াতে এবং মা-শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা এবং বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।
