সিলেটের বিয়ানীবাজারে চাঞ্চল্যকর কিশোরী হত্যাকাণ্ডের ঘটনার এজাহারনামীয় আসামি আবু বক্কর (৪৫) সিলেটের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ সময় মেয়ে হত্যার আদ্যপান্ত তুলে ধরেন তিনি। কেন মেয়েকে হত্যা করে ফেরারি হলেন, তা কান্নাভেজা কণ্ঠে তুলে ধরেন। এর আগে মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পলাতক ছিলেন বক্কর। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, প্রেম- ভালোবাসা, পারিবারিক অমিল ও সামাজিক চাপের জটিল বাস্তবতায় বিয়ানীবাজারে নৃশংসভাবে মেয়েকে হত্যা করেন তার বাবা।
নিহত কিশোরী রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর রায়গড় এলাকার সিএনজি অটোরিকশাচালক আবু বক্করের মেয়ে। জানা যায়, গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রিয়া নানাবাড়ির পুকুরঘাটে গোসল করতে যান। এ সময় তার বাবা সেখানে গিয়ে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকলে রিয়ার ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুকুরঘাটের সিঁড়িতে রক্তাক্ত মরদেহ ফেলে ঘাতক বাবা গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যান। সূত্র জানায়, নিহত রিয়া গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন আহমদ নামের এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও শিক্ষার্থী হওয়ায় বিষয়টি মানতে পারেননি তার বাবা।
তবে রিয়াকে দমানো যায়নি। সবার অমতে বছরখানেক আগে বিয়ে করেন। এরপর দাম্পত্য জীবনে সাংসারিক কলহে বিভক্ত হয় যান তারা। রিয়া তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপারা ইউনিয়নের ইনাম গ্রামে নিজের নানাবাড়িতে অবস্থান করেন। সরজমিন জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে রিয়া আবারো স্বামী শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দমিয়ে রাখেন। এরপর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হয়। বাবার কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরও এসব বিষয়ে বাড়াবাড়ি করায় সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে হয় পরিবারকে।
এতে ক্ষোভ ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী জানায়, বক্কর খুব শান্ত স্বভাবের ছিলেন। পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা আনতে তিনি ওমান পাড়ি জমান। সেখানে থাকা অবস্থায় রিয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর ওমান থেকে ফিরে অটোরিকশা চালানো শুরু করেন। বিয়ানীবাজার থানার ওসি আবুজাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির জানান, এ ঘটনায় নিহত রিয়ার মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বকরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। তিনি মেয়ে হত্যার পুরো ঘটনা বর্ণনা করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
