মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আজ যখন স্পেন ও আর্জেন্টিনা ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার লড়াইয়ে নামবে, তখন খেলোয়াড়দের মাথায় থাকবে শুধুই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। তবে এই একটি ম্যাচ কেবল নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নই উপহার দেবে না। বরং আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ভাগ্যও নির্ধারণ করে দিতে পারে।
লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ একচ্ছত্র আধিপত্যের যুগ এখন অতীত। ইতিহাস সাক্ষী, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ বা বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট না জিতলে ব্যালন ডি’অর জেতা প্রায় অসম্ভব। গত ১৯টি ব্যালন ডি’অরের মধ্যে মাত্র ৪টি এমন খেলোয়াড় পেয়েছেন, যারা সে বছর এই প্রধান শিরোপাগুলো জেতেননি (তিনবার মেসি, একবার রোনালদো)। বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতে আলোচনায় থাকলেও, মূল স্পটলাইট আজকের ফাইনালের দুই নায়কের ওপর। ৩৯ বছর বয়সে এসেও লিওনেল মেসি যেন ২০১১ সালের বার্সেলোনার সেই জাদুকরী রূপের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছেন।
ইন্টার মায়ামির হয়ে ক্লাব ফুটবলের পরিসংখ্যানকে পাশে রাখলেও, চলতি বিশ্বকাপে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে তুলেছেন তিনি। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও সবার ওপরে ‘এলএম১০’। আজ জিতলে ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়বেন তিনি, যা তাকে এনে দিতে পারে নবম ব্যালন ডি’অর। অন্যদিকে, মাত্র ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল গত বছর ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হন। এবার বার্সেলোনার হয়ে ২৪ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট করে লা লিগা জিতলেও, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ থেকে ছিটকে যেতে হয় কোয়ার্টার ফাইনালে।
বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করে লীগ ও দুটি কাপ জিতেছেন হ্যারি কেইন। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ও বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় তার ব্যালন ডি’অর স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে। কিলিয়ান এমবাপ্পেও সুবিধাজনক স্থানে নেই। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ট্রফিহীন মৌসুম সবচেয়ে বড় খড়গ। বিশ্বকাপে ৮ গোল সত্ত্বেও ফ্রান্সের বিদায়ে ২৭ বছর বয়সী এই তারকার অপেক্ষা অনুমিতভাবেই আরও বাড়ছে।
