ফিফার সূচি নিয়ে ক্ষুব্ধ স্কালোনি ঝুঁকির মাঝে অনুশীলন স্পেনের

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ভিন্ন ভিন্ন বিড়ম্বনার মুখে দুই ফাইনালিস্ট। একদিকে ফিফার সূচি নিয়ে চটেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি, অন্যদিকে দাবানলের ধোঁয়ায় ধোঁয়াশাচ্ছন্ন আকাশের নিচে খোলা মাঠে অনুশীলন করতে হয়েছে স্পেন দলকে। কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে উত্তর নিউ জার্সির আকাশ। এমন স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই গতকাল খোলা মাঠে ফাইনালের প্রস্তুতি সারে স্পেন দল। পূর্ব হ্যানোভারে সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এক ঘণ্টার অনুশীলনের প্রথম ১৫ মিনিট সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত ছিল। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ অ্যালায়েন্সের কর্মকর্তা ড. কোর্টনি হাওয়ার্ড পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই খেলোয়াড়রা অত্যন্ত শীর্ষ পর্যায়ের অ্যাথলেট।

অনুশীলনের সময় ফুসফুসে তারা ব্যাপক পরিমান বাতাস গ্রহণ করেন। বাতাসের মান যদি বিপজ্জনক পর্যায়ে থাকে, তবে কোনোভাবেই তাদের খোলা মাঠে অনুশীলন করা উচিত নয়। এন ৯৫ মাস্ক পরিয়ে তাদের খেলানো কোনো ভালো উপায় হতে পারে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সির তথ্যমতে, গতকাল নিউ জার্সিতে কণা দূষণের মাত্রা ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডের চেয়ে সাত গুণেরও বেশি। স্বস্তির খবর, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল শুরুর আগেই এই ধোঁয়া কেটে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে তারা। হার্ভার্ড স্কুল অফ পাবলিক হেলথের গবেষক মেরি জনসন বলেন, ‘ধোঁয়া সবার জন্যই ক্ষতিকর, বিশেষ করে যারা ব্যায়াম করছেন। ব্যায়ামের সময় শ্বাস-প্রশ্বাস বেশি নিতে হয় বলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থও বেশি প্রবেশ করে।

এমনকি সুস্থ খেলোয়াড়দের জন্যও এমন পরিবেশে শারীরিক কসরত করা একেবারেই উচিত নয়।’ অন্যদিকে ফিফার নির্ধারিত সূচি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নিউ জার্সিতে পৌঁছানোর পরপরই বাধ্যতামূলক অনুশীলনের সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা এখন বিশ্রাম নিচ্ছি। তারা আমাদের এমন এক সময়ে অনুশীলন করতে বাধ্য করেছে, যখন আমরা করতে চাইনি। কিন্তু সংবাদ সম্মেলন এবং অন্যান্য সব কিছুর কারণে আমাদের খুব অদ্ভুত ও দ্রুত একটি সেশন করতে হয়েছে, যেখানে আমরা কিছুই ঠিকমতো ঝালিয়ে নিতে পারিনি।’ এর আগে মিশরের বিপক্ষে রাউন্ড অফ সিক্সটিন ম্যাচের আগেও একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ৪৮ বছর বয়সী এই কোচ। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘টুর্নামেন্ট যত শেষের দিকে এগিয়ে আসে, ম্যাচ বেশি খেলার কারণে বিশ্রামের প্রয়োজন তত বাড়ে, কিন্তু উল্টোটা ঘটছে। আমরা সেদিন মায়ামির প্রচণ্ড গরমে খেলেছি, আর এখন পরের দিন দুপুরে খেলছি।

বিশ্রামের সময়টা একদমই আদর্শ নয়। আমি মনে করি মিশরের কিছুটা বেশি সময় (বিশ্রামের জন্য) ছিল। খুব বড় পার্থক্য নয়, তবে আমি বিশ্বাস করি বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে বিশ্রাম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।’ স্কালোনি বলেন, ‘আমরা এখন কেবল বিশ্রামের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি এবং এরপর দেখবো তারা (খেলোয়াড়রা) কেমন অবস্থায় আছে। কারণ কিছু খেলোয়াড় এখনো শতভাগ ফিট নয়, আমরা তাদের অবস্থা মূল্যায়ন করবো। আমরা নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো নিয়ে ভাবছি, তবে প্রতিপক্ষের ভালো দিকগুলোও আমাদের মাথায় আছে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন