ভালুকায় নির্মাণাধীন ট্যাংকে পড়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের ভালুকায় এক্সিল্যান্ড সিরামিকস গ্রুপের নির্মাণাধীন ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) ট্যাংকে পড়ে অক্সিজেন সংকটে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও বড়চালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উদ্ধার কাজে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন সহকর্মীরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। নিহতরা হলেন- খুলনার কয়রা উপজেলার নক্সা-আমাদী গ্রামের ফারুক গাজীর ছেলে মেকানিক্যাল ওয়েল্ডার শফিকুল ইসলাম এবং নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার বল্লী গ্রামের কুহিল মিয়ার ছেলে সিভিল হেলপার রুমেল।

কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর দুই শ্রমিক দীর্ঘক্ষণ ইটিপি প্ল্যান্টের ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকলেও তাদের উদ্ধারে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি। এমনকি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠাতেও ব্যাপক গড়িমসি করে। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা ও গাফিলতির কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। শ্রমিক মিজানুর রহমান, বাদল ও আবু তাহের জানান, শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে সিভিল হেলপার রুমেল ইটিপি প্ল্যান্টের ট্যাংকে নামার পর সেখানে তীব্র অক্সিজেন সংকটে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ছটফট করতে দেখে উদ্ধার করতে ট্যাংকের ভেতরে নামেন মেকানিক্যাল ওয়েল্ডার শফিকুল ইসলাম। কিন্তু তিনিও একইভাবে অক্সিজেনের স্বল্পতায় অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়েন।

পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এক্সিল্যান্ড সিরামিকস গ্রুপের স্যানিটারি প্ল্যান্টের প্রধান অবিনাশ কুণ্ডু বলেন, নিহতরা কারখানার নিয়মিত শ্রমিক ছিলেন না। তারা ঠিকাদারের অধীনে চুক্তিভিত্তিক (কন্ট্রাকচুয়াল) শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। তবে উদ্ধার কাজে অবহেলার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। এদিকে, খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। শিল্প পুলিশ ময়মনসিংহ-৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গুপিনাথ কাঞ্জিলাল বলেন, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাফিলতি ও উদ্ধার কাজে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন