সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালের আধুনিকায়ন কাজে স্থবিরতা

সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালের আধুনিকায়ন কাজে স্থবিরতা

ফন্ট সাইজ:

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালকে সব মানুষের জন্য উন্মুক্ত ও আধুনিকায়ন (জেনারেল হাসপাতাল) করার প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়েছে। এক বছর আগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালটি ৮২ শয্যাবিশিষ্ট। এক সময়ের রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসাসেবার ভরসা হাসপাতালটিতে এখন ভুতুড়ে পরিবেশ। চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের জনবল প্রায় শূন্যের কোঠায়। বর্তমানে একজন মাত্র চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ফলে একজন চিকিৎসকের পক্ষে বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া, সিংহভাগ পদ শূন্য থাকায় এক্স-রে সহ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে।

২০২০ সালে চিকিৎসক ও কারিগরি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়ে। এতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫ হাজার পরিবার। সূত্র আরও জানায়, অচলাবস্থা কাটাতে রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন এই হাসপাতাল যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার জন্য ২০২৫ সালের ২১শে এপ্রিল রেলপথ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য গঠন করা হয় কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি। ওই কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী সময়ে অর্থ বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় প্রকল্পটির গুরুত্ব বিবেচনা করে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব হাসপাতালটি সরজমিন পরিদর্শন করেন।

৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো সংস্কার কাজও করা হয়। এরপর এক বছর কেটে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দফায় দফায় ফাইল চালাচালি হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যকার সমন্বয়হীনতায় প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন সৈয়দপুর কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমান বলেন, চিকিৎসক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে রংপুর বা দিনাজপুরের দূরবর্তী মেডিকেল কলেজগুলোতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এ বিষয়ে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আনিছুল হক জানান, অন্তর্র্বর্তী সরকারের সময় রেলওয়ের চারটি হাসপাতালকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত ও আধুনিকায়ন করার প্রকল্প নেয়া হয়। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর রেলওয়ে হাসপাতাল জেনারেলে রূপান্তর করা হয়েছে। সৈয়দপুরেরটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে ফাইল অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই কার্যকর হবে। নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন, ইতিমধ্যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেছি। সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন