নেতৃত্বে বাংলাদেশ না থাকলে সে কিসের নেতা, প্রশ্ন রিজভীর

নেতৃত্বে বাংলাদেশ না থাকলে সে কিসের নেতা, প্রশ্ন রিজভীর

ফন্ট সাইজ:

কারো নেতৃত্বে এবং তার হৃদয়ের মধ্যে যদি বাংলাদেশ না থাকে তাহলে সে কিসের নেতা বলে এমন প্রশ্ন রেখেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ প্রশ্ন রাখেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, কারো নেতৃত্বে যদি সামগ্রিক বাংলাদেশ না থাকে, তার হৃদয়ের মধ্যে যদি গোটা বাংলাদেশ না থাকে, সে কিসের নেতা? ১৭ বছর ধরে আমরা সেটাই দেখেছি। দেশের মধ্যে দেশ, ঘরের মধ্যে ঘর-এটাই তৈরি করা হয়েছে। আর এটা করতে গিয়ে আমরা অনেক মেধাবী মানুষকে হারিয়েছি। কেউ হয়তো দেশের বাইরে চলে গেছেন, সেখানেই স্থায়ী হয়ে গেছেন আর ফিরে আসেননি। কেউ হয়তো আজীবনের জন্য বঞ্চিত হয়েছেন, যার ফলে নিজের বিকাশ ঘটিয়ে জাতিকে যে সার্ভ করবেন, সেই জায়গাটা হারিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনা নিয়ে এসে কাউকে এগিয়ে দেন আর কাউকে ফেলে রাখেন, তাহলে তো সেই ব্যক্তি বাংলাদেশের মানুষের ক্ষতি করছেন, মানবতার ওপর আঘাত করছেন। এটাই ১৭ বছর ধরে হয়েছে। কত ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র, সে ছাত্রজীবনে হয়তো ছাত্রদল করেছে বা তৎকালীন সরকারি দল করত না, অন্য কোনো দল করত-এই কারণে তার প্রমোশন হয়নি। হয়তো প্রথমে চাকরিই হয়নি, পরবর্তীতে চাকরি পেলেও প্রমোশন হয়নি। সবদিক থেকে সে বঞ্চিত হয়েছে এবং দিনের পর দিন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাকে ফেলে রাখা হয়েছে।

রিজভী বলেন, কেউ যদি ভালো ডাক্তার হন, উনি যদি রোগীদের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ হন, তাহলে আপনি তাকে বাদ দেবেন কেন? তার যোগ্যতাকে কেন অবমূল্যায়ন করবেন? এই অজ্ঞতার কারণে দেশে কোনো ব্রেন গেইন হচ্ছে না, বরং আপনারা মেধার অপচয় করলেন এবং দেশের সর্বনাশ করলেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেখেছি, বাপের বা পরিবারের কেউ হয়তো অন্য দল করে-এই কারণে কারও কোনো প্রমোশন হয়নি। এখানে আমাদের যারা আছেন, যেমন ডা. রফিক, ডা. লোহানী, ডা. জাহাঙ্গীর, ডা. শাকিলসহ যাদেরকে আমি চিনি, তাদের অনেকেরই পাবলিকেশন আছে। প্রমোশন পাওয়ার জন্য যে সাপোর্ট ও কোয়ালিটি দরকার- কোয়ালিফাই করার জন্য যা যা প্রয়োজন, সবকিছুই তাদের আছে। কিন্তু তাদের প্রমোশন দেয়া হয়নি, তারা মেডিকেল অফিসার হিসেবেই থেকে গেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যদি ৫ই আগস্টের পরিবর্তন না হতো, তাহলে এরা কেউ অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর বা প্রফেসর হতে পারতেন না, তাদের সেই পরিচয়টাই আসত না। তাহলে তাদের মতো ভালো ডাক্তার, প্রফেসর বা অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর হওয়ার জন্য যে পড়াশোনা ও রিসার্চ করেছেন, তার তো কোনো মূল্য থাকল না। এইভাবে বিভিন্ন সেক্টরের মতো এই সেক্টরটাকেও-যারা সরাসরি মানুষকে নিয়ে কাজ করে, মানুষের বাঁচা-মরা নিয়ে কাজ করে-নষ্ট করা হয়েছে।

MD SAHID ULLAH

৪ ঘন্টা আগে

নেতৃত্বে বগুড়া।

মন্তব্য করুন