ফেনীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. হোসেন ইরানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ করেছে পরিবার। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে শনিবার দুপুরে ফেনী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের স্ত্রী রিনা আক্তার। এ সময় নিহতের দুই শিশুসন্তান, বোন ও ভাসুরের স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে রিনা আক্তার বলেন, গত ৭ই জুলাই ফেনীর দেওয়ানগঞ্জ রেললাইন থেকে হোসেনের খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে মৃত্যুর আগে ধারণ করা পাঁচটি ভিডিও ক্লিপ পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, ওই ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হন এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং মানসিক নির্যাতন ও চাপের মাধ্যমে তাকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে গত ১০ই জুলাই ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিলেও এখন পর্যন্ত ফেনী মডেল থানায় নথিভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। রিনা আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পরও কিছু ব্যক্তি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা দিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নগদ অর্থ আটকে রেখেছেন।
পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা, চাঁদা দাবি এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলেন তিনি। নিহতের পরিবারের দাবি, ভিডিও বার্তায় উল্লেখ থাকা ব্যক্তিদের কারণেই হোসেন মানসিক চাপ ও অপমানের শিকার হন, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত এফআইআর গ্রহণ, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করে।
