মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের ব্যাপক পাল্টা আঘাত

টানা সংঘাতের সপ্তম দিন

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের ব্যাপক পাল্টা আঘাত

ফন্ট সাইজ:

ইরানে টানা সপ্তম রাতের মতো তীব্র বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি শেষ বলে ঘোষণা করার পর থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী এই হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার ওপর গভীর আঘাত হেনেছে। মার্কিন বাহিনী এই অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইয়াজদ, কেশম দ্বীপ এবং প্রণালির পাশে অবস্থিত বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর ওপর ইরান ব্যাপকভাবে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয় জানায়, একটি শত্রুভাবাপন্ন হামলায় তাদের বিদ্যুৎ ও পানি শোধন প্ল্যান্টকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যার ফলে প্লান্টের একটি অংশে আগুন ধরে যায় এবং কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। কুয়েত ফায়ার ফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি হামলায় সৃষ্ট আগুন নেভাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন দমকলকর্মী ও শ্রমিক আহত হয়েছেন। উপরন্তু, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে কুয়েত তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়।

পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে ইরানের ইসলাম রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপসী (আইআরজিসি) কুয়েতের আল-আহমাদি বন্দরে অবস্থিত একটি মার্কিন নৌ-জ্বালানি সহায়তা জেটি এবং কুয়েতের ভেতরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সিগন্যাল ও যোগাযোগ কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। কুয়েতের পাশাপাশি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের সমাবেশস্থল শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটি এবং মার্কিন গোয়েন্দা ডাটা সেন্টারেও ইরান সফলভাবে আঘাত হানার দাবি করেছে। কাতারও এই সংঘাতের কবলে পড়েছে। সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ওপর থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক শিশু আহত হয়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাতে তাদের আকাশসীমায় নিক্ষেপ করা ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, তবে সিবিএস নিউজকে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে গত সপ্তাহে জর্ডানের দুটি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।

ওমান সাগরের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি থাই পতাকাবাহী জাহাজ আইআরজিসি-র সতর্কতা উপেক্ষা করে পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটির ওপরও ইরান হামলা চালায় বলে জানা গেছে। হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার বিষয়ে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির একটি প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে তেহরানের করা বেসামরিক অবকাঠামো যেমন সেতু, ট্রেন স্টেশন এবং বিমানবন্দরে হামলার দাবি অস্বীকার করলেও বিবিসি ভেরিফাই ও বিবিসি পার্সিয়ান রাতে একটি সেতুতে অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও এবং পরবর্তীতে দিনের আলোয় ভেঙে পড়া ধ্বংসাবশেষের ছবি যাচাই করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হরমুজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন।

হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র একচেটিয়াভাবে সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোতেই এই হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোতে মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি পরিচালনাকারী অঞ্চলের দেশগুলোকে এর জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক মূল্য দিতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধাবসান ঘটানোর লক্ষ্যে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।

তবে আলোচনা কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় গত সপ্তাহে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তারপর থেকে ইরানি স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌঅবরোধ আরোপ করেছে। ইরানও এই প্রণালি নৌচলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে, যার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরল বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

হারুন উর রশীদ

১ ঘন্টা আগে

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে গেছে বোধকরি, এতে বিশ্ব অর্থনীতি তথা দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনীতি খাদে পড়ে যেতে পারে! এতে বিশ্বে আমেরিকার ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে!

মন্তব্য করুন