বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের মনে একটাই প্রশ্ন- লিওনেল মেসিকে কীভাবে থামাবে স্পেন? স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামীকালের মেগা ফাইনালে মহাতারকাকে আটকাতে তাদের ‘বিশেষ মনোযোগ’ থাকবে ঠিকই, তবে মেসিকে বোতলবন্দী করতে কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে আঠার মতো লেগে থাকার (ম্যান মার্কিং) দায়িত্ব তিনি দিচ্ছেন না।
নিউ ইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার দে লা ফুয়েন্তে তার অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীকে ম্যান-টু-ম্যান মার্কিং করা কতটা বিপজ্জনক, তা তিনি ভালো করেই জানেন। সেভিয়ার যুব দলের কোচ থাকাকালীন বার্সেলোনা যুব দলের মেসির মুখোমুখি হওয়ার একটি গল্প শুনিয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমি যখন সেভিয়ার যুব দলের দায়িত্বে, তখন বার্সেলোনায় খেলতে গিয়েছিলাম। মেসি নামের এক কিশোরের কথা খুব শুনছিলাম তখন। তাকে আটকাতে আমার দলের একজনকে ম্যান-টু-ম্যান মার্কিংয়ের দায়িত্ব দিই। কিন্তু ৭০ মিনিটে সেই খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখায় তাকে তুলে নিতে বাধ্য হই। তখন স্কোরলাইন ছিল ০-০। আর তার পরের ১৫ মিনিটে মেসি আমাদের জালে একাই ৪টি গোল জড়িয়ে দেয়!’
সেদিনের সেই তেতো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্প্যানিশ বস আরও বলেন, ‘তাই এবার আমরা ম্যান-টু-ম্যান মার্কিংয়ের ফাঁদে পা দিচ্ছি না। তবে অবশ্যই আমাদের শতভাগ সতর্ক থাকতে হবে এবং তার ওপর বিশেষ নজর রাখতে হবে।’ ৩৯ বছর বয়সী মেসি যেভাবে এই বয়সেও অবিশ্বাস্য পারফর্ম করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে টেনে তুলেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি মেসিকে তরুণ অ্যাথলেটদের জন্য এক ‘অনন্য উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যা দেন দে লা ফুয়েন্তে।
চাপহীন স্প্যানিশ ডাগআউট ও হেলিকপ্টার আতঙ্ক
ফাইনালে একদিকে যেমন ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সামনে ২০১০ সালের পর আবার বিশ্বজয়ের হাতছানি, অন্যদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার লক্ষ্য টানা দ্বিতীয় শিরোপা। তবে এই ম্যাচের আগে স্প্যানিশ শিবিরে কোনো স্নায়ুচাপ নেই, বরং বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন দে লা ফুয়েন্তে। সংবাদ সম্মেলনে মজা করে তিনি জানান, ফাইনাল নিয়ে তার কোনো টেনশন নেই, ভয় কেবল হেলিকপ্টার ভ্রমণ নিয়ে!
হাসতে হাসতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আসলে কিছুটা নার্ভাস, কারণ আমাদের হেলিকপ্টারে করে টিম হোটেলে ফিরতে হবে। আমরা হেলিকপ্টারেই এখানে এসেছি এবং সংবাদ সম্মেলন শেষে আবার ওড়ালের চিন্তাটাই আমাকে একটু ভাবিয়ে তুলছে। তা ছাড়া আর কিছু নয়- আমি সম্পূর্ণ শান্ত আছি।’
ফাইনালের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি আবার দে লা ফুয়েন্তের বেশ পুরোনো বন্ধু। ২০১৭ সালে স্কালোনি যখন কোচিং লাইসেন্সের জন্য পড়াশোনা করছিলেন, তখন ফুয়েন্তে ছিলেন তার ইন্সট্রাক্টর। আর্জেন্টিনা ফাইনালে জিততে মাঠের বাইরে কোনো মনস্তাত্ত্বিক খেলা বা ‘স্ট্রিটওয়াইজ’ কৌশল খাটানোর চেষ্টা করতে পারে- এমন গুঞ্জনকে উড়িয়ে দিয়ে ফুয়েন্তে বলেন, ‘আর্জেন্টিনা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও টানা দুবারের কোপা আমেরিকা জয়ী দল। তারা নোংরা ফুটবলে বিশ্বাসী নয়। দুই দলের ফুটবলীয় প্রতিভা ও শৈল্পিক ফুটবলই রোববারের ফাইনালকে রাঙিয়ে তুলবে।’
একই সঙ্গে বিশ্বকাপের বর্ধিত হাফ-টাইম (যা মূলত জমকালো কনসার্টের জন্য প্রায় ৩০ মিনিট হতে যাচ্ছে) নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, আগামী ৩০ বছরের মধ্যে এই দীর্ঘ বিরতি ও হাইড্রেশন ব্রেক ফুটবলের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হতে পারে।
