যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) গত মাসে জেফ্রি এপস্টেন-সংক্রান্ত বিপুল নথিপত্র প্রকাশ করেছে। এতে এফবিআইয়ের বহু সাক্ষাৎকার প্রতিবেদন অনুপস্থিত থাকতে পারে বলে এক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপস্টেইন সহযোগী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের আইনজীবীদের দেয়া একটি প্রমাণতালিকায় এফবিআইয়ের প্রায় ৩২৫টি সাক্ষাৎকার নথির সিরিয়াল নম্বর রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে ৯০টির বেশি নথি ডিওজের ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে না।
অনুপস্থিত নথির তালিকায় এমন তিনটি সাক্ষাৎকারও রয়েছে, যা এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কিত- তিনি দাবি করেছিলেন, কিশোরী বয়স থেকে এপস্টেইন তাকে যৌন নির্যাতন করেছেন এবং একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন।
কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট সদস্য রবার্ট গারসিয়া বলেন, একজন জীবিত ভুক্তভোগী প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু এফবিআই যে সাক্ষাৎকারগুলো নিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলোর একটি ধারাবাহিক অংশ আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ডিওজে আইন অনুযায়ী সব নথি প্রকাশ করেছে কিনা।
হোয়াইট হাউস অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও চাঞ্চল্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অতীতেও এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ডিওজের এক মুখপাত্র বলেন, কোনো নথি মুছে ফেলা হয়নি এবং আইন অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক সব নথিই প্রকাশ করা হয়েছে। যে নথিগুলো প্রকাশিত হয়নি, সেগুলো হয় ডুপ্লিকেট, বিশেষ সুরক্ষাধীন অথবা চলমান ফেডারেল তদন্তের অংশ।
২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে থাকা অবস্থায় এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালে ম্যাক্সওয়েলের বিচার চলাকালে ফেডারেল প্রসিকিউটররা তার আইনজীবীদের যে নথি দেন, তার মধ্যেই শত শত ৩০২ ফাইল ছিল- যেগুলো সাক্ষাৎকারে সাক্ষীরা কী বলেছেন তা নথিবদ্ধ করে। সাবেক এফবিআই উপ-পরিচালক অ্যান্ড্রু ম্যাকক্যাব বলেন, ৩০২ ফাইল তদন্তের সবচেয়ে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
সংশ্লিষ্ট নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এপস্টেইন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি এফবিআই হটলাইনে যোগাযোগ করেন। পরে তার আইনজীবীর কার্যালয়ে এফবিআই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি দাবি করেন, সাউথ ক্যারোলিনায় এপস্টেইনের অবস্থানকালে কিশোরী বয়সে তাকে বারবার নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে একটি পরিচিত ছবিতে ট্রাম্প ও এপস্টেইনকে একসঙ্গে দেখে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জড়িত করার কারণে প্রতিশোধের আশঙ্কা ছিল বলে তার আইনজীবী জানান।
প্রমাণতালিকায় একই ভুক্তভোগীর সঙ্গে সম্পর্কিত ২০১৯ সালের আগস্ট ও অক্টোবরের আরও তিনটি নথি এবং তিন সেট ইন্টারভিউ নোটস-এর উল্লেখ আছে। যা প্রকাশিত ফাইলে পাওয়া যায়নি। তবে তিনি এফবিআইকে যে ছবি ও চিঠিপত্র দিয়েছিলেন, তার কিছু অনুলিপি রয়েছে।
আরেকটি নথিতে ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে সংঘটিত বলে উল্লিখিত এক অভিযোগের সারসংক্ষেপ আছে, যেখানে বলা হয়, এপস্টেইন পরিচয়ের পর এক প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে যৌন নির্যাতন করেন। যদিও মামলার নথিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম উল্লেখ নেই।
ডিওজের ওয়েবসাইটে নথি যোগ-বিয়োগের ঘটনাও ঘটেছে। কিছু নথি সাময়িকভাবে সরিয়ে পরে পুনরায় যুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের নাম গোপন রাখার সম্পাদনার কারণে এমনটি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, নিজেদের সাক্ষাৎকারের নথি খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের মতে, পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। বিষয়টি নিয়ে আদালতেও আপত্তি তোলা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, প্রকাশিত নথিতে ঘাটতি আছে কিনা- তা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
