ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

জনগণের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, আমি মনে করি ঋণে ডুবে থাকার থেকে কষ্ট করে থাকা ভালো। কোয়ালিটি গ্যাস সরবরাহ আশা করা কঠিন, গ্যাস নাই আমি কি করবো। গরম যত বেশি আসবে গ্যাসের চাপ কমবে বলে জানান মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে সেখানে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে সেখানে বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হচ্ছে। পুরোই হ-য-ব-র-ল অবস্থা।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি আগে যখন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম, ২০০৪ সালে নীতিমালা করেছিলাম, তাতে বলা ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশীদারিত্ব থাকবে ৩৫ শতাংশ, আর সরকারি থাকবে ৬৫ শতাংশ। পরবর্তী সরকার এটা মানেনি। এখন বেসরকারি অংশ হয়ে গেছে ৮২ শতাংশ। যে কারণে কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা জনগণের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে গেছে। এতো টাকা দায়, ম্যানেজ করা কঠিন। বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারবো না। আমরা চেষ্টা করছি উইন উইন সিচুয়েশনে আনতে হবে।

তিনি বলেন, আমার সময় বিদ্যুতে সিস্টেম লস ছিল ৬ শতাংশ। ১৯ বছর পরে এসে দেখছি ১০ শতাংশ হয়ে গেছে। ১ শতাংশ সমান ৫০ লাখ টাকা। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা। প্রাথমিকভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য। এটা করা গেলে লোকসান কমে আসে। না হলে দায় আরও বাড়বে, আইএমএফ এসে চাপ দিবে। আমরা বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে ভাবছি। যাতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা যায়। বিদ্যুতের দাম বাড়বে না এ কথা আমি বলিনি। তবে আমি দাম বাড়াতে চাই না। যদি সিস্টেম লস কমিয়ে আনা যায়, তাহলে অনেকটা সহজ হয়।
মন্ত্রী বলেন, কোয়ালিটি গ্যাস সরবরাহ আশা করা কঠিন, গ্যাস নাই আমি কি করবো। গরম যত বেশি আসবে গ্যাসের চাপ কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গ্যাস সংকট নিয়ে নিউজ হচ্ছে, এটা নিউজ নয়। ব্যবস্থাপনা জনিত কারণে কোন সমস্যা হলে তখন বলতে পারতেন। গ্যাসের কূপ খনন করা হয়নি। আমরা বিদেশের উপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছি। রিগ কেনা হবে, সেখানে দক্ষ জনবল দরকার। সে জন্য প্ল্যান করা হচ্ছে, এ জন্য সময় দিতে হবে।

গ্যাস নাই অথচ আবাসিক গ্রাহকের কাছ থেকে পুরো বিল আদায় করা হচ্ছে কেনো! এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, মিটার নেন তাহলে সমস্যা থাকে না। আমরা অবশ্যই মিটার দেবো। তখন আবার বলিয়েন না, জোর করে মিটার দেয়া হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সম্ভাব্য সকল বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবগত করতে হবে। কি করতে হবে সেখান থেকে নির্দেশনা নিতে হবে। কারণ এটা খুবই স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, আমার মন্ত্রীত্বের বয়স মাত্র ৭ দিন। এখন অনেক কথাই বলতে চাই না। কোন তথ্য থাকলে আমার দিক থেকেই জানাবো।
বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, এক পয়সা দুর্নীতি করিনি, হারাম পয়সা খাইনি। অথচ সপরিবারে জেলের ঘানি টানতে হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আয়করের মামলা দেয়া হয়েছে। আয়কর মামলা যে কারো বিরুদ্ধে দেয়া সম্ভব! এতে এমন সব ধারা রয়েছে। জমি বেচে মামলা চালাতে হয়েছে। আমার বাবা বলতেন, আগে টাকা বানাবি তারপর রাজনীতি করবি। আমার অনেক ব্যবসা ছিল, এখন একটা শিল্পও নাই। তিনি সাংবাদিকদের কাছে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ আশা করার কথা ব্যক্ত করেন ওই অনুষ্ঠানে।

এফইআরবি বিদায়ী চেয়ারম্যান শামীম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিদায়ী কমিটি ও নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এফইআরবি নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন