বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) প্রকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। যা ১৯৯২ সালের পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে অন্তত ৮৪ জনকে হত্যা করেছে ইসরাইল।
সিপিজে বলেছে, এই মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ঘটেছে ইসরাইলের অভিযানে এবং দেশটি সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলায় দায়মুক্তির এক স্থায়ী সংস্কৃতি বজায় রেখেছে।
সিপিজে ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী নথিভুক্ত ৪৭টি ‘টার্গেটেড কিলিং’-এর মধ্যে ৩৮টির জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে, যেগুলোকে তারা সরাসরি হত্যা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, গাজায় চলমান যুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ ও মানবিক সংকটের কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অনেক প্রমাণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে কতজন ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হত্যা করা হয়েছে, তা হয়তো কখনোই পুরোপুরি জানা যাবে না।
আল জাজিরার অন্তত পাঁচজন সাংবাদিক ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে সিপিজে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আনাস আল শরিফ এবং হোসেন শাহাদাত। গাজা সিটিতে সাংবাদিকদের একটি তাঁবুতে হামলায় একসঙ্গে চারজন নিহত হন।
রিপোর্টে বলা হয়, ২০২২ সালে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত আল জাজিরার প্রবীণ সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ এর নামে নামকরণ করা এই সাইট বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩০০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন।
ইসরাইল কিছু সাংবাদিক নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সিপিজে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এগুলোকে অপবাদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
গাজা ও ইয়েমেনের বাইরে ২০২৫ সালে সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় সুদান ও মেক্সিকো শীর্ষে রয়েছে। গৃহযুদ্ধপীড়িত সুদানে ৯ জন এবং সংগঠিত অপরাধ সহিংসতায় জর্জরিত মেক্সিকোতে ৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাশিয়ার সামরিক হামলায় চারজন ইউক্রেনীয় সাংবাদিকও নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
