সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা তৃতীয় দফার পরোক্ষ বৈঠকে বসেছেন। চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়াতে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখবে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন- নতুন পারমাণবিক চুক্তি না হলে ইরানের ওপর হামলার পথ বেছে নিতে পারেন তিনি। যদিও তিনি কূটনৈতিক সমাধানের কথাও বলেছেন, তবে প্রয়োজনে সীমিত সামরিক হামলা বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক আগ্রাসনের পর সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশ এখন দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত হাজার হাজার সেনা, দুটি বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধজাহাজ, ফাইটার জেট ও রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েন করেছে।
বিপরীতে ইরানও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যেকোনো হামলার জবাব কঠোরভাবে দেয়ার কথা জানিয়েছে তারা। এতে পরিস্থিতিতি কঠিন পথে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পূর্বের দুই দফা বৈঠকের মতো এবারও আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রয়েছে ওমান। ইরান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেদ কুশনার।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরান দাবি করে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একমাত্র, যারা প্রায় অস্ত্রমানের কাছাকাছি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, সেগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ করতে দেয়নি ইরান।
ইরান তাদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে কিছু ছাড় দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। আলোচনায় আঞ্চলিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কনসোর্টিয়াম গঠন এবং প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে- সে বিষয় উঠতে পারে। বিনিময়ে ইরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়, যা তাদের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে বিরোধীরা বলছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে শাসকগোষ্ঠী শক্তিশালী হবে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর (যেমন হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতি) সমর্থন বন্ধের শর্ত না থাকলে কোনো চুক্তিই গ্রহণযোগ্য হবে না।
মার্কিন কংগ্রেসে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধের প্রতিশ্রুতি না দেয়, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন- তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় একটি ঐতিহাসিক চুক্তির সুযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা সফল না হলে অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতেও পড়বে।
