শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ফন্ট সাইজ:

শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা ও ত্রিপিটক এবং বাইবেল থেকে কিছু অংশ পাঠ করা হয়। এসময় প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও শিক্ষার উন্নয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য শিশু শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের মানুষ করার কারিগর আপনারা। তাই খেয়াল রাখতে হবে কোনো শিশু যেন নির্দয় হয়ে বেড়ে না ওঠে। সেটি প্রাণী হোক বা পশু-পাখির প্রতি হোক। কারও প্রতি যেন তারা নির্দয় না হয়। তাই শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ এই অনুষ্ঠানে এসে মনে হচ্ছে আমি একটি কারখানায় ঢুকে পড়েছি। যেখানে সবাই মানুষ গড়ার কারিগর। শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়তে আপনাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আপনারাই পারেন শিশুদের মধ্যে পারিবারিক, সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে।
তিনি আরও বলেন, জানি, আপনাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, কিছু সংকট আছে। সেগুলো আমরা সমাধানের চেষ্টা করবো। তবে আপনাদের জন্য ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা করবো। যেন আপনারা অর্জিত সেই জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সঠিকভাবে ছড়িয়েছে দিতে পারেন।

শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার ওপরও জোর দেন সরকারপ্রধান। এ ছাড়া তাদের প্রতিবছর একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তোমরা প্রতিবছর বর্ষাকালে একটি করে গাছ লাগাবে। গাছটাও বড় হবে, সঙ্গে তোমরাও বড় হবে। গাছই হবে তোমাদের বন্ধু। গাছের নিচে বসে ক্লান্তি দূর হবে, শান্তি পাবে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে দেশ জুড়ে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে পদক দেয়া হয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের মাঝেই খুদে শিক্ষার্থীদের দু’টি গ্রুপের মধ্যে ‘মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’- এর পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শিশুদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। একের পর এক চলতে থাকে গান, কবিতা আবৃত্তি, নাচ ও নাটক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিথি সারিতে বসে এসব আয়োজন উপভোগ করেন।
সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচির উদ্বোধন: প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্টল পরিদর্শন করে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থলে স্টল পরিদর্শনে যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। পরে প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন শুরু করেন। প্রতিটি স্টল ঘুরে ঘুরে প্রধানমন্ত্রী দেখেন এবং শেষ স্টল পরিদর্শন করেন সকাল সাড়ে ১১টায়।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

দেশের ৬০টি জেলার শিক্ষার্থীরা এই সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচিতে অংশ নেন। ছোট্ট শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ এলাকার স্বাতন্ত্র্য, ঐতিহ্য এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি চিত্রাঙ্কন, বিভিন্ন হস্তশিল্প, কাগজের তৈরি এলাকার ঐতিহ্য তৈরি করে।
প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্নভাবে সাজানো স্টলে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছো তোমরা?
স্টলে বিভিন্ন হস্তশিল্প দেখে বলেন, এসব কি তোমরা বানিওছো? শিক্ষার্থীরা সবাই বলে উঠে, ‘জি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’।এসময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ‘ধন্যবাদ’ জানান।
একটি স্টলে গিয়ে ছোট্ট ছোট্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা বিদ্যালয়কে পরিচ্ছন্ন রাখবে। যেখানে ময়লা দেখবে তুলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেবে। ঠিক আছে।
হবিগঞ্জের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্টলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কুশল বিনিময় করে বলেন, তোমরা সবাই ভালো আছো তো। শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আপনি কেমন আছেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ভালো আছি।
একটি স্টলে প্রধানমন্ত্রী দেখেন শিশুদের জন্য লাইব্রেরি করে বই সাজানো আছে রেকে। এক ছোট্ট শিশু তাদের পকেট লাইব্রেরির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা করে বলে, এই লাইব্রেরিতে লেভেল করে স্যার শিশুদের বই সাজানো আছে। যে শিশুটি বই পড়তে চায়, সে সেই লেভেলে গিয়ে বইটি নেবে। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা সুন্দর জিনিস সেট করেছো। এ জন্য তোমাদের ধন্যবাদ।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখার সময়ে বিভিন্ন স্টলে ছোট্ট শিক্ষার্থীদের আবদারও পূরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি স্টলে ছোট্ট শিক্ষার্থীদের আবদার ছিল, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি যদি একট টবে গাছের চারাটা রোপণ করে দেন, সেটা আমরা আমাদের স্কুল আঙ্গিনায় লাগাবো স্মৃতি হিসেবে। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে রাজি হলেন। কোথায় তোমাদের টব ও গাছ। দ্রুত শিক্ষার্থীরা টব এনে গাছের চারাটা প্রধানমন্ত্রীর হাতে দিয়ে তা টবে মাটির ভেতরে লাগিয়ে দেন।

আরেকটি স্টলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীরা ছবি তোলার আবদার করে বলেন, আমরা আপনার সঙ্গে স্যার একটি ছবি তুলতে চাই। সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো অসুবিধা নেই।
এই বলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্টলের ভেতরে চলে যান এবং শিশুদের সঙ্গে দাঁড়ান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন