তারা দিনে পুলিশ, রাতে ডাকাত

মালয়েশিয়া

তারা দিনে পুলিশ, রাতে ডাকাত

ফন্ট সাইজ:

পুলিশের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবেই পরিচিত। তবে রক্ষকই যখন ভক্ষক হয়ে ওঠে তখন যেকোনো সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। মালয়েশিয়ার কেদাহ অঙ্গরাজ্যে তেমনি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
এশিয়াওয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথক দুটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটিতে তিন পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কেদাহ পুলিশের প্রধান আদজলি আবু শাহ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, গত ২৭ জুন ও ১ জুলাই সংঘটিত দুটি পৃথক ডাকাতির ঘটনায় তার বাহিনীর তিন সদস্যসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২৭ জুন রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে কেদাহর কোডিয়াং এলাকার পাদাং সেরা অঞ্চলের একটি বাড়িতে।

দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রথমে একটি বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির অভিযোগ পায়। সেখানে বসবাসরত ছয়জন বিদেশি নাগরিকের কাছে পুলিশের জ্যাকেট পরা পাঁচ ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে হাজির হন।
এনিয়ে সাংবাদিকদের আদজলি আবু শাহ বলেন, অভিযুক্তরা ওই বাড়িতে ঢুকে ভুক্তভোগীদেরকে মোবাইল ফোন হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়। এরপর তারা এক হাজার ৭৫০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (প্রায় ৫৬০ সিঙ্গাপুর ডলার) নগদ অর্থ লুট করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরবর্তীতে সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী টহল দলের সদস্যরা ওই পাঁচজনকে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
আদজলি আবু শাহ জানান, গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন পারলিস অঙ্গরাজ্যের একটি থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য, আর বাকি তিনজন সাধারণ নাগরিক।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক ও অন্যান্য অপরাধ-সংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, এই পাঁচ সন্দেহভাজন কোডিয়াং এলাকায় সংঘটিত আরও দুটি ডাকাতির ঘটনার সঙ্গেও জড়িত।

পরবর্তীতে গত ১ জুলাই আলোর সেতার শহরের জালান লাঙ্গার এলাকার একটি বাড়িতে সংঘটিত আরেকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এতে অভিযুক্ত হিসেবে কেদাহ পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত ২৬ বছর বয়সী এক পুলিশ সদস্যের নাম উঠে আসে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ছয় সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবারের কাছে গিয়ে তাদের শরণার্থী পরিচয়পত্র (রিফিউজি ডকুমেন্ট) দেখতে চান।
এই বিষয়ে আদজলি আবু শাহ বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য প্রথমে ওই পরিবারের এক পুরুষ সদস্যের মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এরপর ওই ব্যক্তির স্ত্রীর কানে থাকা এক জোড়া স্বর্ণের দুল খুলে নিয়ে যান।

তিনি জানান, পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) পরিচয়পত্র এবং মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পুলিশ জানায়, পরবর্তীতে ২ জুলাই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত সামগ্রী এবং ডাকাতি করা মালামাল উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া তদন্তকারীদের ধারণা, পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ওই সদস্য ৩০ জুন ডেরগা জায়া পুলিশ আবাসিক এলাকায় সংঘটিত আরেকটি ডাকাতির ঘটনাতেও জড়িত থাকতে পারেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন