উত্তাল বেলুচিস্তান, পাকিস্তান কী ভেঙে যাচ্ছে?

উত্তাল বেলুচিস্তান, পাকিস্তান কী ভেঙে যাচ্ছে?

ফন্ট সাইজ:

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তান প্রায় দুই দশক ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রদেশটিতে সহিংসতার ঘটনা বেশ বেড়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার পরিমাণ অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমাতে অভিযান জোরালো করেছে পাক বাহিনী।

আল জাজিরা, রয়টার্স ও এপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে ফুটে উঠছে, বেলুচিস্তানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুতর।
চলতি বছরে প্রদেশটিতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে জুলাইয়ে বেলুচিস্তানে বড় ধরনের কয়েকটি হামলা হয়েছে। এরপরেই সেখানকার পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত।

পাক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ জুলাই থেকে তিনটি বড় হামলা হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ৪২ জন পুলিশ ও সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ৭ জুলাই মাঙ্গি ড্যামে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় নিহত হয়েছিল ২৭ জন পুলিশ।
এরপরেই পাক বাহিনী ‘শাবান’ নামে প্রদেশটিতে অভিযান শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত শতাধিক বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রগুলো।
এমন উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে ‘বেলুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে’- এমন দাবি করে একটি বিবৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

‘রিপাবলিক অব বেলুচিস্তান’- এর নামে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বেলুচিস্তান পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এবং বর্তমানে অঞ্চলটির ৮৫ শতাংশ ভূখণ্ড তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এছাড়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেলুচিস্তান একটি জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত, নতুন মুদ্রা এবং স্বাধীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বেলুচিস্তান ‘মা চুকাইন বেলুচানি’ নামে জাতীয় সঙ্গীত গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ‘বেলুচি ফালুস’ নামে নতুন জাতীয় মুদ্রা চালু এবং জাতীয় পতাকাও গ্রহণ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, নতুন প্রশাসন অঞ্চলটির খনিজ সম্পদ, গ্যাসক্ষেত্র ও কয়লাখনির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। স্বর্ণ ও তামার খনি, ১৫০টির বেশি সক্রিয় গ্যাসক্ষেত্র এবং ১ হাজার ২০০টির বেশি চালু কয়লাখনি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। এসব কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বেলুচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থার বেশ কয়েকজন সদস্য চাকরি ছেড়ে বেলুচ পক্ষের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

তাদের দাবি, বর্তমানে নিজস্ব নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর মাধ্যমে বেলুচিস্তান পরিচালিত হচ্ছে। যদিও তাদের কাছে যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্র বা ভারী কামান নেই, তবুও তারা নিজেদের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বেলুচিস্তানের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসন মিলিয়ে পাঁচ লাখ সদস্যের একটি বাহিনী ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে উৎখাত করতে প্রস্তুত।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আহ্বান
স্বঘোষিত রিপাবলিক অব বেলুচিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের স্বীকৃতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে এবং পাকিস্তানের ‘শত্রুতাপূর্ণ নীতি, পারমাণবিক হুমকি ও উগ্রবাদ’ বন্ধ করতে সহায়তা করবে।
এছাড়া তারা প্রতিবেশী দেশগুলোকে আশ্বস্ত করে বলেছে, বেলুচিস্তানের ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা উপকূল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।

তবে এসব দাবির কোনোটিই এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এদিকে বেলুচ নেতা মির ইয়ার বেলুচ সিএনএন-নিউজ১৮’কে বলেছেন, বেলুচিস্তানে সাধারণ মানুষও এখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধে নেমেছে।

তার দাবি, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে এবং এখন মূলত বিমানবাহিনীর ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, আগে শুধু সশস্ত্র বেলুচ যোদ্ধারা প্রতিরোধ করতেন। এখন সাধারণ জনগণও আন্দোলনে যোগ দিয়েছে এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে দ্রুত বেলুচিস্তান ছেড়ে যাওয়ার দাবি জানাচ্ছে।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন