যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড প্রত্যাহারের ঘটনায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ‘ফেয়ারস্কোয়্যার’।
গত ১লা জুলাই বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী বেলজিয়ামের বিপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনে তার মাঠের বাইরে থাকার কথা ছিল। কিন্তু ম্যাচের আগেই ফিফা জানায়, ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে। যার ব্যাখ্যা দিতে পারেনি সংস্থাটি। পরে জানা যায় এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যিনি ফিফাকে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ইনফান্তিনো নিজেই স্বীকার করেন, তিনি ট্রাম্পের ফোনকল পেয়েছিলেন। তবে তার দাবি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের কোনো প্রভাব ছিল না। ফেয়ারস্কোয়্যারের দাবি, ২০২০ সাল থেকে আইওসির সদস্য ইনফান্তিনো। ফলে অলিম্পিক চার্টার ও সংস্থার আচরণবিধি মেনে চলতে তিনি বাধ্য। সংস্থাটির বলছে, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার এই নীতি অন্তত পাঁচবার ভেঙেছেন ইনফান্তিনো। গুরুতর অভিযোগ বালোগান কাণ্ড নিয়ে। ফেয়ারস্কোয়্যারের দাবি, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর রাজনৈতিক চাপে পড়েই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রভাব খাটান ইনফান্তিনো। অভিযোগের তালিকা অবশ্য এখানেই শেষ নয়।
ফেয়ারস্কোয়্যারের অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ফিফার একটি ফ্যান প্ল্যাটফর্মের প্রচারে অংশ নিয়েছেন ইনফান্তিনো। ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তিনি। ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রকাশ্য সমর্থন জানানোর পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে প্রথম ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ তুলে দিয়েছেন। এসব ঘটনাকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছে সংস্থাটি। অভিযোগগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি ফিফা সভাপতি।
এ বিতর্কের মাঝেই লাল কার্ড প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন বালোগান। সিবিএস মর্নিংসকে তিনি বলেন, ‘আমি জানি বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এসবের প্রভাব শুধু আমার ওপর নয়, পুরো দলের ওপর পড়েছে। আমরা মাঠের ফুটবলে মনোযোগ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বাইরে যা ঘটছিল, তা এড়িয়ে যাওয়া কঠিন ছিল। আমি সব সময় দলের জন্য নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করি। মাঠে খেলার সুযোগ পেয়েছি, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব আমার ছিল না।’
