স্বপ্নভঙ্গে উত্তাল ফ্রান্স, পুলিশের সঙ্গে সমর্থকদের তুমুল সংঘর্ষ

স্বপ্নভঙ্গে উত্তাল ফ্রান্স, পুলিশের সঙ্গে সমর্থকদের তুমুল সংঘর্ষ

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেই থেমে গেল ফ্রান্সের তৃতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন। টেক্সাসের আর্লিংটনে এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে-বারাকোলারা। ম্যাচ শেষ হতে না হতেই সেই হতাশা আছড়ে পড়ে ফ্রান্সের রাজপথে। প্যারিসসহ দেশটির একাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা।

ম্যাচে স্পেনের ৫১ শতাংশের বিপরীতে ফ্রান্সের দখলে ছিল ৪৯ শতাংশ বল। তবে সুযোগ তৈরিতে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও (মোট ১৪টি শট, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৪টি) সেগুলোকে গোলে রূপ দিতে ব্যর্থ হয় তারা। বিপরীতে স্পেন মাত্র ১০টি শটের মধ্যে ২টি লক্ষ্যে রেখেই কাজ সেরে ফেলে। ম্যাচের ২২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে লিড নেয় স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে লা রোহারা। পুরো ম্যাচে ফ্রান্স ৭টি কর্নার আদায় করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি, আর দুই দলই পেয়েছে যথাক্রমে ২টি ও ১টি করে হলুদ কার্ড। আগামী ১৮ই জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে ফ্রান্স। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যায় প্যারিসের চিত্র। যে রাত রঙিন হওয়ার কথা ছিল ফাইনালে ওঠার আনন্দে, সেই রাতই পরিণত হয় ক্ষোভ আর অস্থিরতার রাতে। হাজার হাজার সমর্থক নেমে আসেন রাস্তায়-কারও চোখে জল, কারও মুখে ক্ষোভ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায় পুলিশের সঙ্গে সমর্থকদের ধস্তাধস্তি, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা এবং রাস্তায় আগুন জ্বলার দৃশ্য। সাইরেনের শব্দ আর বিশৃঙ্খলায় মুহূর্তেই পাল্টে যায় কয়েকটি এলাকার পরিবেশ, আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকেও। হারের পর কোনো অজুহাত খোঁজেননি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। বরং দায় স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরাই স্পেনকে খেলার সুযোগ দিয়েছি। মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের অনেক বেশি সময় ও জায়গা দিয়েছি। ওরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। পেনাল্টির পর ম্যাচটা আরও ওদের দিকে চলে যায়। আমরা ফাইনালে ওঠার মতো ফুটবল খেলতে পারিনি।’ সমালোচনা নিয়েও স্পষ্ট কথা বলেছেন ফরাসি অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘জিতলে প্রশংসা পাওয়া যায়, হারলে সমালোচনাও শুনতে হয়। এটাই স্বাভাবিক। অধিনায়ক হিসেবে সব দায়িত্ব আমার। আমরা ফাইনালে যেতে চেয়েছিলাম, পারিনি। তাই মানুষ যা বলবে, সেটা মেনে নিতেই হবে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন