হাফটাইম: ফ্রান্স ০-১ স্পেন
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে স্পেন। মিকেল ওইয়ারজাবালের ২২ মিনিটের পেনাল্টি গোলটিই এখন পর্যন্ত ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফুটবল খেলা লা রিখারা প্রথম ৪৫ মিনিটে ফরাসি রক্ষণভাগকে ভালোই চাপে রাখে। ২০ মিনিটে ফ্রান্সের লেফট-ব্যাক লুকা দিনিয়ের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ নেন লামিন ইয়ামাল।
দিনিয়ে বক্সে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ইয়ামালকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট-কিক থেকে ফরাসি কিপার মাইক মেনিয়কে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে স্পেনকে লিড এনে দেন ওইয়ারজাবাল। এই বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ম্যাচে পিছিয়ে পড়লো ফ্রান্স।
পিছিয়ে পড়ার পর ফ্রান্স দল কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়ে। এর ওপর বড় ধাক্কা আসে যখন চোটের কারণে রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ উইলিয়াম সালিবা মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। স্পেনের লিড দ্বিগুণ হতে পারত যদি বক্সে চমৎকার এক পাসিং মুভমেন্ট থেকে ফাবিয়ান রুইজ শট লক্ষ্যভ্রষ্ট না করতেন।
২২ মিনিট: গোল!
ফ্রান্স ০-১ স্পেন
সেমিফাইনালের মহারণে পেনাল্টি থেকে গোল করে স্পেনকে লিড এনে দিলেন মিকেল ওইয়ারজাবাল!
ম্যাচের ২০ মিনিটে ঘটে আসল ঘটনা। ফ্রান্সের লেফট-ব্যাক লুকা দিনিয়ে একটি ক্লিয়ারিং হেড করতে গিয়ে বল মিস করেন, যা তার মাথার ওপর দিয়ে স্কিম করে পেছনে চলে যায়। বল হুক করে ক্লিয়ার করতে যখন তিনি ঘুরে শট নেন, তখন তিনি খেয়ালই করেননি যে তার ঠিক পেছন থেকে লামিন ইয়ামাল বলের নাগাল পেতে ঢুকে পড়েছেন। ফলে দিনিয়ের বুট সরাসরি আঘাত করে ইয়ামালকে, আর রেফারি কোনো দ্বিধা ছাড়াই পেনাল্টির বাঁশি বাজান। নিজের মারাত্মক ভুলে তখন পুরোপুরি বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল দিনিয়েকে।
ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে দাবি করেন যে বলটি ইয়ামালের হাতে লেগেছিল। তবে রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি তার স্লিভে (হাতে নয়) লেগেছে। ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। পেনাল্টি থেকে ডান দিকের পোস্ট লক্ষ্য করে জোরালো ও নিখুঁত এক শট নেন ওইয়ারজাবাল। ফরাসি কিপার মাইক মেনিয় সঠিক দিকে ঝাঁপিয়েও বলের গতি ও উচ্চতার কারণে তা স্পর্শ করতে পারেননি।
কিক অফ
শুরু মাঠের লড়াই
মুখোমুখি ফ্রান্স-স্পেন
বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আজ টেক্সাসের আর্লিংটনে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে রাত ১টায়। এই ম্যাচে জয়ী দল পৌঁছে যাবে বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে। বিশ্বকাপে দীর্ঘ ইতিহাসে এটি দুই দলের মাত্র দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। ২০০৬ বিশ্বকাপে সর্বশেষ দেখায় ফ্রান্স জেতে ৩-১ ব্যবধানে। তবে সাম্প্রতিক ইতিহাসে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালসহ বেশ কিছু বড় ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে এগিয়ে রয়েছে স্পেন।
ম্যাচের আগে ফ্রান্স দলেই এসেছে কৌশলগত পরিবর্তন। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ থেকে দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে দিদিয়ের দেশমের দল। চোট সারিয়ে মাঝমাঠে ফিরেছেন অরেলিয়ে চুয়ামেনি, জায়গা পেয়েছেন ব্র্যাডলি বারকোলাও।
অন্যদিকে, বেলজিয়ামকে হারানো অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন। দুই রাউন্ডে ম্যাচ জেতানো সুপার-সাব মিকেল মেরিনোকে আজকেও বেঞ্চেই থাকতে হচ্ছে। এটি ফ্রান্সের অষ্টম সেমিফাইনাল, যেখানে স্পেনের মাত্র দ্বিতীয়বার শেষ চারে খেলার অভিজ্ঞতা।
ফ্রান্স একাদশ: মাইক মেনিয়ঁ (গোলকিপার), জুলস কুন্দে, উইলিয়াম সালিবা, দায়োত উপামেকানো, লুকাস দিনিয়ে, আদ্রিয়া রাবিও, অরিলিয়ে চুয়ামেনি, ব্র্যাডলি বারকোলা, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পে।
স্পেন একাদশ: উনাই সিমন (গোলকিপার), পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, দানি ওলমো, লামিন ইয়ামাল, আলেক্স বায়েনা, মিকেল ওইয়ারজাবাল।
