আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। ফর্ম বিচারে ইংল্যান্ডকে এই ম্যাচে এগিয়ে রাখছেন অনেকে। তবে আর্জেন্টিনার শীর্ষ ক্রীড়া দৈনিক ওলে মনে করে, ইংল্যান্ডের খেলার ধরন খুব বেশি জটিল নয়। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, টমাস টুখেলের দল মূলত হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম জুটি, উইংভিত্তিক আক্রমণ এবং সেট-পিসের ওপর নির্ভর করে থাকে। একই সঙ্গে দলটির কয়েকটি দুর্বলতার দিকও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা কাজে লাগাতে পারলে সুবিধা পেতে পারে লিওনেল স্কালোনির দল। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ১৩ গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে কেইন-বেলিংহ্যামের কাছ থেকে। দু’জনেরই ঝুলিতে রয়েছে ছয়টি করে গোল এবং একটি করে অ্যাসিস্ট। তাই ইংল্যান্ডের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু যে এই দুই তারকা, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তাদের ভূমিকা প্রচলিত নয়। কেইন অনেক সময় বক্স ছেড়ে মাঝমাঠে নেমে এসে বল গ্রহণ করেন, আক্রমণ গড়ে তোলেন এবং প্রতিপক্ষের সেন্টারব্যাককে নিজের অবস্থান থেকে টেনে বের করে আনেন।
সেই মুহূর্তেই তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গায় গতি কাজে লাগিয়ে ঢুকে পড়েন বেলিংহ্যাম। মূলত এই সমন্বয়ই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় আক্রমণাত্মক অস্ত্র। আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে কেইন ও বেলিংহ্যামের এই লাইন ভেঙে দেয়া। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে কেইনের নিচে নেমে বল নেয়া এবং বেলিংহ্যামের দৌড়ে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি নাহুয়েল মলিনা ও নিকোলাস তালিয়াফিকোকে ইংল্যান্ডের উইঙ্গারদের বিপক্ষে এক-এক লড়াইয়ে সফল হতে হবে। আর বল পুনরুদ্ধারের পর দ্রুত ট্রানজিশনে আক্রমণে উঠতে পারলেই ইংল্যান্ডের রক্ষণে সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব বলে মনে করছে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম। টুখেলের দল আক্রমণে দুই উইং ব্যবহার করতে বেশি স্বচ্ছন্দ।
ইনভার্টেড উইঙ্গার হিসেবে ডান পাশে বুকায়ো সাকা বা ননি মাদুয়েকে এবং বাম পাশে অ্যান্থনি গর্ডন কিংবা মার্কাস রাশফোর্ড খেলেন। তারা ভেতরে কাট করে সুযোগ তৈরি করেন, আর বাম প্রান্তে নিকো ও’রাইলি ওভারল্যাপ করে আক্রমণে বাড়তি মাত্রা যোগ করেন। অন্যদিকে ডান পাশে খেলতে থাকা এজরি কনসা তুলনামূলক রক্ষণাত্মক ভূমিকা পালন করেন এবং আক্রমণের সময় দুই সেন্টারব্যাকের সঙ্গে মিলে তিনজনের ব্যাকলাইন গড়ে তোলেন। মাঝমাঠে এলিয়ট অ্যান্ডারসন প্রথম পাস, বল পুনরুদ্ধার এবং রক্ষণভাগকে সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করেন। ডেকলান রাইস তুলনামূলক বেশি সামনে উঠে এলেও তিনি সৃজনশীল মিডফিল্ডার নন। ফলে কেইন ও বেলিংহাম ছাড়া ইংল্যান্ডের আক্রমণে খুব বেশি বৈচিত্র্য দেখা যায় না। ওলের ভাষ্য, বড় বড় নাম থাকলেও দল হিসেবে ইংল্যান্ডের ফুটবল এখনো অনেকটাই একঘেয়ে এবং পূর্বানুমানযোগ্য। সেট-পিসও টুখেলের দলের বড় শক্তি।
ডেকলান রাইসের নিখুঁত কর্নার ও ফ্রি-কিকের সঙ্গে জন স্টোনস, গেহি, কেইন ও বেলিংহ্যামের মতো হেডে দক্ষ ফুটবলারদের উপস্থিতি ইংল্যান্ডকে বাতাসে বাড়তি সুবিধা দেয়। এই বিশ্বকাপেই কর্নার থেকে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কেইন এবং পানামার বিপক্ষে বেলিংহ্যাম গোল করেছেন। লিসান্দ্রোর উচ্চতা এক্ষেত্রে অসুবিধার কারণ হতে পারে। সেট পিসগুলো আটকানো আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ মনে করা হচ্ছে। তবে ইংল্যান্ডের দুর্বলতাও স্পষ্ট। ওলের মতে, প্রতিপক্ষের অর্ধে বল হারানোর পর দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক সামলাতে হিমশিম খায় টুখেলের দল। বিশেষ করে আক্রমণে উঠে যাওয়া নিকো ও’রাইলির পেছনের ফাঁকা জায়গা প্রতিপক্ষের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই মেসিকে ডান দিকের হাফ-স্পেসে খেলিয়ে ওই অঞ্চল কাজে লাগাতে পারেন স্কালোনি।
