আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ‘ফিফটি ফিফটি’

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ‘ফিফটি ফিফটি’

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। রাত ১টায় শুরু এই মহারণ। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ওয়ালী ফয়সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী দুই দলই সমানে সমান। তিনি বলেন, ‘আসলে ইংল্যান্ড আর আর্জেন্টিনাকে আলাদা করা কঠিন। যদিও বর্তমান পারফরম্যান্স দেখলে ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনার চাইতে বেটার। তবে আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক কামব্যাক করার ক্ষমতা এবং লিওনেল মেসির জাদুকরী উপস্থিতি ম্যাচটিকে করেছে আরও টানটান উত্তেজনার। আমি মনে করি দুটি টিমই ফিফটি-ফিফটি চান্স। যাকে ভাগ্য ফেভার করবে, যারা নিজেদের ছাড়িয়ে যাবে পারফরম্যান্সে তারাই জিতবে।’

টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের পথচলা ছিল অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে আসা ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস এখন আকাশচুম্বী। ওয়ালী ফয়সাল বলেন, ‘ইংল্যান্ড বড় বড় টিমকে হারিয়েছে। বড় দল বলতে বুঝাচ্ছি প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলছে না আগেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে এমন দলকে। তাই ইংলিশদের আত্মবিশ্বাস একটু বেশি। এটি তাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হবে। আর আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে আসার পথ ইংল্যান্ডের মতো এতটা কঠিন ছিল না। দুটি ম্যাচ তারা অতিরিক্ত সময় খেলে জিতেছে। তবে ফুটবল মাঠের লড়াইয়ের সমীকরণ যেকোনো মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে। দলের শারীরিক সক্ষমতা এবং টেকনিক্যাল দক্ষতার সঠিক প্রয়োগই নির্ধারণ করবে শেষ হাসি কার। খেলোয়াড়দের ফিটনেস এখানে বড় ফ্যাক্টর।

বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং দৃশ্যমান।’ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। দলের মূল ভরসা হলেও, মেসির ওপরই সব কিছু ছেড়ে না দিয়ে দলগত প্রচেষ্টায় বিশ্বাসী বর্তমান আর্জেন্টিনা। ওয়ালী ফয়সাল বলেন, ‘এখনও যেহেতু মেসি কোনো ধরনের ইনজুরি ছাড়া খেলছে, সেই ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার একটু আত্মবিশ্বাসটা অন্যরকমই থাকবে। তারা শেষমুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে। তারা যে কখন গোল করতে পারে তার কোনো ঠিক নেই।’ অন্যদিকে হ্যারি কেইন এবং জুড বেলিংহ্যামের ফর্ম ইংল্যান্ডকে দিচ্ছে বাড়তি শক্তি। মেসির মার্কিং নিয়ে ইংল্যান্ডের পরিকল্পনাই মূলত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে। আর্জেন্টিনার দলগত সংহতি এবং গোল করার ক্ষমতা তাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ম্যাচের কৌশলগত লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। আর্জেন্টিনার দুর্বলতা নিয়ে ফয়সাল বলেন, ‘আমার কাছে আর্জেন্টিনার দুর্বলতাটা বলতে, মেসি না থাকলে গোটা আর্জেন্টিনাই দুর্বল হয়ে পড়ে।

একটাই আত্মবিশ্বাস ওদের, যেহেতু মেসি আছে তার মানে দুর্বলতা তেমন নেই। মেসি থাকলেই তারা মনে করে যে উইন, এছাড়া অন্য কিছু না।’ ওয়ালী ফয়সাল বলেন, ‘যদি মেসি গোল নাও করতে পারে, সতীর্থরা হয়তো মেসির সাপোর্টে এগিয়ে যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে আপনার সবসময় ইংল্যান্ডের সচেতন হয়ে খেলতে হবে। যদি ওরা এক সেকেন্ড, মেসি থেকে চোখের পলক সরায় তাহলে তাদের বিপদ হয়ে যাবে। মেসিকে আটকাতে পারলে আমার মনে হয় যেকোনো অঘটন ইংল্যান্ড এবার ঘটিয়ে দিতে পারে।’ সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা দলের প্রতিটি সদস্যকে এদিন সতর্কতার সঙ্গে মাঠে নামতে হবে। দুই দলের মধ্যকার ঐতিহাসিক বৈরিতা এই ম্যাচকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

ফকল্যান্ড যুদ্ধ থেকে শুরু করে ম্যারাডোনার বিতর্কিত গোলের স্মৃতি এই লড়াইকে মাঠের খেলার বাইরেও এক বিশাল উত্তেজনায় রূপ দিয়েছে। ওয়ালী ফয়সাল বলেন, ‘ম্যারাডোনা নিজে জান-প্রাণ দিয়ে খেলতো ইংল্যান্ডের সঙ্গে। তো আর্জেন্টিনার প্লেয়াররা সেরকমই ভাবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বলেই আমার বিশ্বাস।’ তবে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও বেলিংহ্যামের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে আর্জেন্টিনাকে। ওয়ালী ফয়সাল বলেন, ‘অবশ্যই এই দুইজন আর্জেন্টিনার জন্য ভয়ের কারণ। কারণ ওরা দু’জন যে ফর্মে আছে, ওদেরকে যেকোনো দলেরই আটকে রাখা খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার। আপনি দেখেন পিছিয়ে পড়েও কিন্তু প্রায় ম্যাচ ওরা জিতে নিয়ে আসছে, কামব্যাক করতে পারছে। এই দু’জনকে রুখতে হবে যদি ফাইনাল খেলতে চায় আর্জেন্টিনা!’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন