বিশ্বকাপে ঝড় তুলছে লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই

বিশ্বকাপে ঝড় তুলছে লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই

ফন্ট সাইজ:

ফুটবল মহলে পরিচিত মুখ লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই কাইন। তিন বছর বয়সেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। স্পেনের জয়ে আনন্দে ফেটে পড়া, গ্যালারিতে নেচে গেয়ে ছোটাছুটি করা আবার কখনো ক্যামেরার দিকে চুমু দিয়ে গ্যালারিতে ঝড় তোলে কাইন ইয়ামাল।
স্পেনের বিনোদন সাময়িকী হ্যালো এক প্রতিবেদনে লিখেছে, এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় চমক কোনো খেলোয়াড়, কোনো গোল কিংবা ট্রফি নয়। বরং লামিন ইয়ামালের তিন বছর বয়সী ভাই কাইন। যে তার মজার সব মুহূর্ত দিয়ে পুরো টুর্নামেন্ট মাতিয়ে তুলছে। শুধু স্পেন নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তের সংবাদমাধ্যমেও কাইনকে নিয়ে একের পর এক প্রশংসাসূচক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। কোথাও তাকে বলা হয়েছে ‘২০২৬ বিশ্বকাপের তারকা’, কোথাও আবার ‘গ্যালারির স্প্যানিশ সুপারস্টার’ কিংবা ‘টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রিয় মুখ’।

কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে স্পেনের জয়ের পর সংবাদের শিরোনাম হন কাইন ইয়ামালও। লা রোহাদের বিজয়োল্লাসের মধ্যে ক্যামেরা কাইনের দিকে মুখ করে। সেই সময় একের পর এক মজার মুখভঙ্গি করে দর্শকদের মাতিয়ে রাখে। মাঠের ভেতরে দাঁড়িয়ে বড় স্ক্রিনে ভাইয়ের জিভ বের করা দেখে হেসে ফেলেন লামিন ইয়ামাল নিজেও। মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে সেই দৃশ্য। ক্রীড়াবিষয়ক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম স্পোর্টবাইবেল মন্তব্য করে, এটা যেন পুরোপুরি কাইনের দুনিয়া, বাকিরা শুধু সেই দুনিয়াতেই বাস করছেন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় লামিন ইয়ামাল জানান, ভাই আগেই তাকে নিজের পরিকল্পনার কথা বলে রেখেছিল। এই উইঙ্গার বলেন, ‘আমি তখন ফিজিওথেরাপিতে ছিলাম, সে মায়ের ফোন থেকে কল করে আমাকে বলেছিল যে কাল সে জিহ্বা বের করে ভঙ্গি করবে। তাই স্ক্রিনে তাকে দেখার পর আমি না হেসে পারিনি।’

কাইন স্পেনের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে নতুন মুখ নয়। ২০২৪ সালে যখন স্পেন রেকর্ড চতুর্থবারের মতো ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে, তখনও মাঠে ভাইয়ের সঙ্গে উদযাপনে অংশ নিয়েছিল সে। কয়েক মাস পর প্যারিসে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ছোট্ট কালো স্যুট আর স্নিকার্স পরে রেড কার্পেটেও হাঁটেন খুদে কাইন। লামিন ইয়ামাল ও তাদের মা শিলা ইবানার সোশ্যাল মিডিয়ায় কাইনকে প্রায় দেখা যায়। টিকটকে লামিনের ৫ কোটিরও বেশি ফলোয়ার তাকে নাচতে, কুকি বানাতে শিখতে বা গলফ খেলার চেষ্টা করতে দেখে মুগ্ধ হয়। লামিন ইয়ামাল ও কাইনের মা এক হলেও বাবা আলাদা। লামিনের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর কাইনের জন্ম।

তবু দুই ভাইয়ের বন্ধন নিয়ে বহুবার খোলাখুলি কথা বলেছেন সদ্য ১৯ বছরে পা রাখা বার্সেলোনা তারকা। লামিন বলেন, ‘আমার ছোট ভাই আমার কাছে সবকিছু। আমি তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। মনে হয় সে আমার নিজের সন্তান।’ এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের জয়ের পর গ্যালারিতে কাইন দুই হাত তুলে ভামোস! (চলো) বলে চিৎকার করে সমর্থন দেন। সেই ভিডিও ইন্টারনেটে দ্রুত ভাইরাল হয়। যুক্তরাজ্যে অবস্থিত স্পেনের দূতাবাসও তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি শেয়ার করেছিল। ফুটবল বালক থেকে বিশ্ব তারকা হয়ে ওঠার পথে পরিবারকে সবসময় কাছে রাখার ব্যাপারে সচেতন লামিন ইয়ামাল। গত বছর নতুন ক্লাব চুক্তির আনুষ্ঠানিক ফটোশুট পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছিলেন, শুধু যাতে সেই মুহূর্তে দাদি উপস্থিত থাকতে পারেন।

বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালের ভাই কাইনের জন্ম ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। বয়সের দিক থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে ১৫ বছরের ব্যবধান থাকলেও তাদের পারস্পরিক বন্ধন অসাধারণ। ১৮ বছর বয়সী স্প্যানিশ উইঙ্গার ইয়ামাল বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা হয়ে ওঠার আগে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন। তাই তার কাছে ছোট ভাইয়ের এই স্বাচ্ছন্দ্যময় শৈশব অন্যরকম ভালো লাগার ব্যাপার। পরিবারের অভাব অনটন নিয়ে ইয়ামাল এর আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘একসময় আমি এমন ফ্ল্যাট থেকেছি, যেখানে রান্নাঘর আর শোয়ার ঘর একই জায়গায় ছিল। আজ আমি মাকে সুখী দেখি, আমি দেখি যে আমার ছোট ভাই এমন শৈশব কাটাতে পারছে, যা আমি কখনো পাইনি। এটিই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন