দাদির মৃত্যুর পরের দিনও জাতীয় জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন। ব্যক্তিগত শোক বুকে চেপে দেশের হয়ে খেলেছিলেন বিশ্বকাপে। বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায়ের পর দেশে ফিরে মৃত্যু হং দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ ফুটবলার জেইডেন অ্যাডামসের। মাত্র ২৫ বছর বয়সে পরপারে চলে যান এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার। কেপটাউনের শটসে ক্লুফ এলাকার একটি বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি। কারণ জানতে তদন্তে নেমেছে কেপটাউন পুলিশ। এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের হয়ে তিনটি ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন অ্যাডামস। বিশ্বকাপ থেকে ফেরার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার হয়। শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল খেলোয়াড়দের ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
জেইডেন অ্যাডামসের বিশ্বকাপ যাত্রাটা ছিল শোকের মধ্যে সাহসের গল্প। চেক প্রজাতন্ত্র বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের ম্যাচের তার দাদি মারিয়ানা মারা যান। সেই শোককে সঙ্গী করে ম্যাচে প্রথম একাদশে নেমেছিলেন অ্যাডামস। মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ হারের ম্যাচেও শুরু থেকে মাঠে ছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ১-০ জয়ের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন। ২৮শে জুন কানাডার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার ম্যাচে অব্যবহৃত বিকল্প হিসেবে বেঞ্চে ছিলেন। ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা হুয়ানিতো অ্যাডামস। দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদ সংস্থা ইএনসিএকে রোববার তিনি বলেন, ‘পরিবার এটা হজম করতে পারছে না। এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে না।’ ছেলের প্রতি বিশ্বজুড়ে মানুষের ভালোবাসা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
হুয়ানিতো অ্যাডামস বলেন, ‘মানুষ বলে সময়ের সঙ্গে সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু হয় না। শুধু শিখতে হয় এই কষ্ট নিয়ে বাঁচতে। সামনে কী আছে, সময়ই বলবে। সারা বিশ্ব জেইডেনের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। জেইডেনের ফুটবলের প্রতি এবং তার নিজের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা- তা আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।’ দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রী গেটন ম্যাকেঞ্জি এক বিবৃতিতে জেইডেনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। দাদির মৃত্যুর পরও মাঠে নামার সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তার সেই বিনয়ী ও কৃতজ্ঞ প্রতিক্রিয়া আমি চিরকাল বুকে বহন করবো। সেই মুহূর্তে জাতীয় জার্সি গায়ে দেশের জন্য সবকিছু উজাড় করে দেয়ার যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন তা তার অসাধারণ চরিত্র ও বয়সের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্বতার প্রমাণ।’
জেইডেনের মৃত্যুতে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের কোয়ার্টার ফাইনাল শুরুর আগে উভয় দলের খেলোয়াড়রা তার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
২০০১ সালে জন্মগ্রহণকারী জেইডেন অ্যাডামস ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলের প্রতিভাবান তারকা। মধ্যমাঠের দক্ষতা, পরিশ্রমী মানসিকতা এবং মাঠে নেতৃত্বের ক্ষমতা দিয়ে নিজেকে আলাদা করে চেনান তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমে ২টি গোল করেন অ্যাডামস।
