আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অনুকূল পরিস্থিতির তথ্য পাওয়ায় পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘসময় বন্ধ রাখতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়ে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালু রাখতে এবার পৃথক ও স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার।
ড. আ ন ম এহছানুলক হক মিলন বলেন, পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, কারিগরি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার জন্য পৃথক ও স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রস্তাব বর্তমানে অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, এ ধরনের স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপিত হলে পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। মন্ত্রী আরও জানান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ও স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে বর্তমানে কোনো স্বতন্ত্র পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয়তা, বাস্তবতা ও সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলে পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ভরতা কমানো এবং শিক্ষা কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্নে চলমান থাকে, সে লক্ষ্যে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, আগামী বছর জানুয়ারিতে এসএসসি, জুনে এইচএসসি পরীক্ষার নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে (২০২৭ সালে) জানুয়ারিতে এসএসসি, জুনে এইচএসসি পরীক্ষার নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। কক্সবাজার-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য লুৎফুর রহমানের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবর্ষকে সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রী জানান, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শিক্ষাবর্ষের শুরু ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচির মধ্যে সামঞ্জস্য আনা এবং শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক সময়ের অপচয় কমানো সম্ভব হবে। সরকার পর্যায়ক্রমে পাবলিক পরীক্ষা আরও আগাম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

Andalib
২ ঘন্টা আগেমাননীয় শিক্ষামন্ত্রী,
১। বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতি চার বছর অন্তর হয়। আমাদের দেশের মানুষ বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় উৎসবে মেতে উঠে। সে সময় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মনোযোগে যে ভীষন ব্যঘাত ঘটে সেটা আমরা নিজের ঘরেই দেখতে পারছি।
২। রবিবার সকালে যে ধরনের বৃষ্টি হয়েছে সেটা পরীক্ষার্থীদের চরম অসুবিধার মধ্যে ফেলেছিল।
অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া বা সিন্ধান্ত দেয়া মন্ত্রীর কাজ। এটা যিনি করতে পারেন না, তিনি ব্যর্থ।