বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিয়েই নরওয়েতে ফিরতে চেয়েছিলেন আরলিং হালান্ড। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। পরিবর্তে দেশে ফেরার বিমানে তার হাতে দেখা গেল উত্তর আমেরিকার একটি মাঝারি আকারের নিশাচর স্তন্যপায়ী প্রাণি র্যাকুসন পুতুল। পুতুলটির হাতে ধরা ছিল একটি হুইস্কির বোতল। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে নরওয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়। ফলে হালান্ডদের টুর্নামেন্টযাত্রার ইতি ঘটে।
ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা স্ট্রাইকার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করতে না পারলেও, পুরো টুর্নামেন্টে পাঁচ ম্যাচে সাতটি গোল করে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলার পাশাপাশি নিজের মজার ও অদ্ভুত আচরণের জন্যও নতুন করে ভক্তদের মন জয় করেছেন হালান্ড। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়ে দেশে ফেরার সময় বিমান থেকে নামার মুহূর্তে তাকে দেখা যায় একটি র্যাকুন পুতুল হাতে। র্যাকুনটির হাতে একটি হুইস্কির বোতলও ছিল। জানা গেছে, ডালাস সফরের সময় ওয়াইল্ড বিলস নামে একটি পশ্চিমা ধাঁচের দোকান থেকে এই অদ্ভুত প্রাণিটির পুতুল কিনেছেন হালান্ড। সেই দোকান থেকে তিনি কাউবয় টুপি, বুট, বেল্ট বাকল এবং ‘ইউ অল ক্যান কিস মাই ডালাস’ লেখা একটি টি-শার্টসহ আরও বেশ কয়েকটি জিনিস কেনেন। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে সেই র্যাকুনটি। জানা গেছে, বিরল এই সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীর মূল্য প্রায় ৫৬০ পাউন্ড। প্রাণিটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘হুইস্কি র্যাকুন এইচ-এমটি-এফ’। হালান্ডের এই অপ্রত্যাশিত কেনাকাটা দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তরা নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একজন এক্সে লিখেছেন, হালান্ডকে যতবার দেখি, ততবারই তাকে আরও বেশি ভালো লাগে। আরেকজন লিখেছেন, আগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ওর খেলা দেখেছি, তখনও আগ্রহ ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপে এসে সে একেবারে অন্যরকম একটা ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছে। একজন মার্কিন সমর্থক লিখেছেন, এটা আমাকে ভীষণ আমেরিকান গর্ব অনুভব করাচ্ছে। আরেকজনের মন্তব্য, টেক্সাস থেকে ৭৫০ ডলারের হুইস্কি র্যাকুন কিনে নিয়ে যাওয়া- এটাই অনেক দিনের মধ্যে দেখা সবচেয়ে মজার সংগ্রহ। আরও অনেকে লিখেছেন, দারুণ একজন মানুষ। আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, এমন একজন মানুষকে অপছন্দ করা সম্ভব?
মাঠের বাইরেও ব্যতিক্রমী জীবনযাপন
হালান্ড তার অস্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্যও বেশ পরিচিত। তিনি আগেই জানিয়েছেন, তিনি কাঁচা গরুর দুধ পান করেন এবং কলিজা, হৃদপিণ্ড ও কিডনির মতো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে তৈরি তথাকথিত ‘পূর্বপুরুষদের খাবার’ নিয়মিত খান। এ ছাড়া তিনি প্রতিদিন প্রায় ১০০০ বার সিট-আপ করেন এবং প্রায়দিনই আইস বাথ ও সাউনা নেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর অভ্যাসগুলোর একটি হলো, ঘুমানোর আগে তিনি নিজের মুখ টেপ দিয়ে বন্ধ করে রাখেন, যাতে নাক দিয়ে শ্বাস নেয়ার অভ্যাস বজায় থাকে।
