বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে স্থানীয় সময় বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারিতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। কারণ স্টেডিয়ামে তাদের সমর্থকদের তুলনায় অনেক বেশি থাকবে আর্জেন্টিনার সমর্থক। মাঠে এদিন আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ঢল নামবে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৫০ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় জড়ো হবেন। ফুটবলের এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সবচেয়ে বড় লড়াইগুলোর একটিকে ঘিরে শহরজুড়ে আগে থেকেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের সমর্থক থাকবেন প্রায় ৩০ হাজার। ফলে গ্যালারিতে তারা সংখ্যায় পিছিয়ে থাকবেন। এ খবর দিয়েছে বৃটিশ একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকা।
উত্তেজনার শঙ্কায় কঠোর নিরাপত্তা
শনিবার নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ২-১ গোলের জয়ে ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা দেখা যায়। সেই ঘটনার পর সেমিফাইনাল ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ম্যাচ উপলক্ষে ১৮০০ পুলিশ সদস্য, বেসামরিক সহায়ক কর্মী এবং ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকবে অশ্বারোহী পুলিশ ইউনিটও। শুধু স্টেডিয়ামেই নয়, টিকিটবিহীন হাজারো ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা সমর্থক যেখানে খেলা দেখবেন, সেই সেন্টেনিয়াল অলিম্পিক পার্ক এবং ডিক্যাটার স্কয়ার ফ্যান জোনেও কঠোর নিরাপত্তা থাকবে। আটলান্টা পুলিশের প্রধান ড্যারিন শিয়ারবাউম বলেন, ম্যাচকে কেন্দ্র করে অনেক পুলিশ সদস্যকে টানা ১২ ঘণ্টার অতিরিক্ত শিফটে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, সবাইকে মাঠে নামতে হবে।
কোটি কোটি দর্শকের নজর
ম্যাচটি শুধু স্টেডিয়ামেই নয়, টেলিভিশনেও বিপুল দর্শক টানবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু বৃটেনেই প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ম্যাচটি সরাসরি দেখতে পারেন। আর বিশ্বজুড়ে দর্শকসংখ্যা ৫০ কোটিরও বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ইংল্যান্ড দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই পর্যায়ে পৌঁছাতে দলটি অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করেছে এবং আরেকটি কঠিন পরীক্ষার জন্যও প্রস্তুত। সূত্রটি বলেছে, এই আর্জেন্টিনা দলকে হারানো সম্ভব। টুখেলের দল সেটা করতে পারে। তবে জয়ের জন্য হয়তো আবারও অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের মতো কঠিন এক লড়াই লড়তে হবে। তিনি আরও বলেন, এটি আমাদের কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ম্যাচ এবং সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
