যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আমদানির ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। এতে দেশটির সরকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শত শত কোটি ডলার ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত মার্কিন বাজেট সংক্রান্ত পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাাইন গার্ডিয়ান।
গত বছর পুনরায় দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার একটি অন্যতম মূল অংশ ছিল আমদানিকৃত পণ্যের ওপর এই অতিরিক্ত শুল্ক বা কর আরোপ করা। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের নির্দেশিত এই অতিরিক্ত শুল্কের একটি বড় অংশ বাতিল করে দেয়। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান এই শুল্ক পরিশোধ করেছিল, তাদের অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
বাজেটের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছর যা শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে, এ পর্যন্ত মার্কিন সরকার শুল্ক ফেরত বাবদ ৮১০০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। গত বছরের ঠিক একই সময়ে এই অর্থ ফেরতের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫০০ কোটি ডলার। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, অর্থ ফেরতের এই বিশাল বৃদ্ধির কারণ মূলত সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্ত, যার বেশিরভাগই সম্পন্ন হয়েছে মে এবং জুন মাসে। ট্রাম্প এই শুল্ক নীতিকে মার্কিন অর্থনীতির সব সমস্যার এককালীন সমাধান হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, এর ফলে আমেরিকার কলকারখানাগুলো দেশে ফিরে আসবে, বাণিজ্য চুক্তিগুলো আরও উন্নত হবে এবং ফেডারেল বাজেটের ঘাটতি কমে আসবে।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন রূপ নিয়েছে। শুল্ক থেকে আসা আয়ের কারণে গত বছর মার্কিন বাজেট ঘাটতি কিছুটা কমলেও, এখন তা আবার বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এই ঘাটতির পরিমাণ ২ ভাগ বেড়ে ১.৩৬৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আমেরিকা তার ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে, যা আগের চেয়ে ১৪ ভাগ বেশি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশটির সামরিক ব্যয়ও ৫ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসনের বর্তমান সাময়িক ১০ ভাগ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জোরাজুরি করে কাজ করানো প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনের শিথিল প্রয়োগ এবং অতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতার অজুহাতে হোয়াইট হাউজ নতুন করে আরও শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
