বিশ্বকাপের হাই ভোল্টেজ দুই ম্যাচ। বলা যায় ফাইনালের আগেই অন্যরকম ফাইনাল। ফ্রান্স বনাম স্পেন। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড। চারটি দলই জনপ্রিয়তায় শীর্ষ স্থানে। এমবাপ্পে, লামিল ইয়ামাল, লিওনেল মেসি আর বেলিংহ্যাম বা হ্যারি কেন। বিশ্বসেরা সব তারকার লড়াই। এই দুই সেমিফাইনালে দর্শকদের মধ্যে উৎসাহের জোয়ার।
তবে ফ্রান্স বনাম স্পেনের ম্যাচের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ম্যাচের টিকিট। কারণ, ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই ঐতিহাসিক গোলের প্রতিশোধ নিতে চায় ইংল্যান্ড। ফিফা পুরুষদের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্স বাংলাদেশের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটায় ডালাসে তৃতীয় স্থানে থাকা স্পেনের মুখোমুখি হবে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন বিশ্বকাপের বছরজুড়ে দীর্ঘ সময় র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকলেও এপ্রিল মাসে ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স তাদের ছাড়িয়ে যায়।
টিকিটডাটা ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচের একটি টিকিটের গড় মূল্য ছিল ১৩২৫ ডলার। গত তিন দিনে এর দাম ২৬ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে এই টিকিটের মূল্য অন্য সেমিফাইনালের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত একটায় আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলবে। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব আটলান্টা ইউনাইটেড-এর বড় একটি আর্জেন্টাইন সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। এছাড়া আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক কোচ হেরার্দো ‘তাতা’ মার্তিনো ২০২৪ সালের নভেম্বরে ক্লাবটির প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিটের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৮৪১ ডলার, যা গত তিন দিনে ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। শনিবার টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ২৯৬৬ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। পরদিন সকালে তা কমে ২৫৩৭ ডলারে নেমে আসে। এই ম্যাচের টিকিটের দাম তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের তুলনায়ও প্রায় দ্বিগুণ। শনিবার মায়ামিতে হতে যাওয়া সেই ম্যাচের টিকিটের গড় মূল্য ১৫৪৩ ডলার।
রোববার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ফাইনালের টিকিটের বর্তমান গড় মূল্য ৬৭৬০ ডলার। যদিও গত ৭২ ঘণ্টায় দাম ৬ শতাংশ কমেছে। অক্টোবর মাসে ফাইনালের টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ১৩৬৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। ২১ জুন এর মূল্য ছিল ১২৩০১ ডলার। আর ৬ জুলাই ছিল ৯৯১১ ডলার।
গত শুক্রবার ফিফা ফাইনালের ক্যাটাগরি ২-এর প্রায় ১২০০টি টিকিট ৭৩৮০ ডলার দামে বিক্রির জন্য ছাড়ে। ফিফার শেষ মুহূর্তের টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটে, যেখানে কখনো কখনো ম্যাচটিকে ‘সোল্ড আউট’ দেখানো হয়েছিল, সেখানে এখনও ১১৭৮টি আসন পাওয়া যাচ্ছিল। স্টেডিয়ামের উপরের গ্যালারির পাঁচটি সেকশনে এসব আসন ছিল। এর মধ্যে সেকশন ৩৪৪-এ ২৮২টি, ৩৪৩-এ ২৯৯টি, ৩৩৫-এ ১৩৯টি, ৩৩৪-এ ৪৪৩টি এবং ৩৩৩-এ ১৫টি আসন ছিল।
বিশ্বকাপের টিকিট এত ব্যয়বহুল কেন?
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিভিন্ন ধাপে টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে ফিফা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এমনকি একটি সমর্থক সংগঠন অতিরিক্ত টিকিটমূল্যের অভিযোগ এনে মামলাও করেছে। এপ্রিল মাসে ফিফার পুনর্বিক্রয় বাজারে চারটি টিকিটের মূল্য প্রতি টিকিট ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। এ নিয়ে ফিফা সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনো রসিকতা করলেও, তিনি উচ্চমূল্যের পক্ষে অবস্থান নেন। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের আইনে টিকিটের মূল মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে পুনর্বিক্রয়ের সুযোগ থাকায় ফিফার সেই সুবিধা নেয়ার অধিকার রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকিটের উচ্চমূল্যের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এবারের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হচ্ছে। চীনের সাংহাইয়ে অবস্থিত এমলিয়ন বিজনেস স্কুলের আফ্রো-ইউরেশীয় ক্রীড়া বিষয়ক অধ্যাপক সাইমন চ্যাডউইক আল জাজিরাকে বলেন, বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো এখান থেকে বিপুল রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা।
তার মতে, ফিফা এমন একটি পরিণত বাজারে প্রবেশ করেছে, যেখানে দর্শকদের খেলাধুলার জন্য ব্যয় করার প্রবণতা অনেক বেশি। বিশেষ করে প্রিমিয়াম ও করপোরেট টিকিটের বাজার অত্যন্ত শক্তিশালী। চ্যাডউইকের বিশ্বাস, ফিফা যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে ব্যবহৃত ডায়নামিক টিকিট প্রাইসিং মডেল অনুসরণ করছে। ডায়নামিক প্রাইসিং এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে টিকিটের মূল্য স্থির থাকে না। বরং চাহিদা, সরবরাহ এবং ম্যাচের সময় যত ঘনিয়ে আসে, তার ভিত্তিতে টিকিটের দাম তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ে বা কমে।
