‘ক্ল্যাশ অব দ্য টাইটানস’

‘ক্ল্যাশ অব দ্য টাইটানস’

ফন্ট সাইজ:

একদিকে ‘ইউরোপিয়ান পাওয়ার হাউজ’ খ্যাত ফ্রান্স, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের স্প্যানিশ মহাশক্তি। কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে লামিন ইয়ামালের দ্বৈরথ। গতি আর সৃজনশীলতার প্রদর্শনী। এমন কত শিরোনামেই বিশেষায়িত করা যায় ফ্রান্স-স্পেনের মধ্যকার সেমিফাইনালকে। ফুটবল বোদ্ধাদের চোখে ম্যাচটি যেন ফাইনালের আগে ‘আরেক ফাইনাল’। বলা হচ্ছে, এই লড়াইয়ে জয়ী দলের হাতেই এবার উঠবে সোনালি ট্রফিটা। ডালাসে দুই দলের মহাদ্বৈরথ শুরু হচ্ছে রাত ১টায়।

ইএ স্পোর্টসের ভবিষ্যদ্বাণী- এবার চ্যাম্পিয়ন হবে স্পেন। আর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা’র সম্পাদক হোসে মারিয়া রদ্রিগেজ মনে করেন, স্পেনের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের পথে ফ্রান্সই সবচেয়ে বড় বাধা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসে ও উসমান দেম্বেলের গতিময় আক্রমণ, বড় ম্যাচে ফরাসিদের অভিজ্ঞতা এবং নকআউটে ফল বের করে আনার সক্ষমতা স্প্যানিশদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তাদের মতে, ফ্রান্স এমন একটি দল, যারা খুব বেশি বল দখলে না রেখেও মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। তাই স্পেনের অনেকেই এই সেমিফাইনালে নিজেদের ফেভারিট মনে করছেন না।
তবে স্প্যানিশ ড্রেসিংরুমের চিত্র তেমন নয়। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। স্পেন চলতি আসরে মাত্র এক গোল হজম করেছে। ফ্রান্সকে ২০২৪ ইউরোর সেমিফাইনালে হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে স্পেনের বর্তমান স্কোয়াডের। এরপর উয়েফা নেশন্স লীগের সেমিফাইনালেও ফরাসিদের কাঁদায় লা রোহারা। এর আগে জিতেছে ২০১২ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালেও। লামিন ইয়ামাল তাই আগেই বলে রেখেছেন, ‘স্পেনকে ফ্রান্সের ভয় পাওয়া উচিত।’

মুখোমুখি পরিসংখ্যানেও এগিয়ে স্পেন। ৩৮ দেখায় ১৮টিতে জিতেছে স্প্যানিয়ার্ডরা। ফ্রান্সের জয় ১৩টি। আর স্প্যানিয়ার্ড কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, আমরা যেমন ফ্রান্সকে নিয়ে উদ্বিগ্ন তেমনি ফ্রান্সও আমাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। মনে রাখবেন, আমরা ওদের টানা দুই ম্যাচে হারিয়েছি। দুটো দলই অসাধারণ।’
ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টে সম্ভবত এবারই একটু চাপে থাকবেন এমবাপ্পে। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা দ্বৈরথের কারণে আজকের ম্যাচ ঘিরে বাড়তি আবেগ কাজ করতে পারে তার। স্পেনের বিপক্ষে অবশ্য ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে বরাবরই উজ্জ্বল এমবাপ্পে। তিন ম্যাচে দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট রয়েছে তার। এমবাপ্পের সক্ষমতা নিয়ে স্প্যানিয়ার্ড ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি বলেন, ‘তাকে নিয়ে আমরা ভীত নই। কিন্তু সবাই জানে তার সক্ষমতা কী। সে যদি পুরোপুরি ম্যাচে না-ও থাকে তবুও চোখের পলকে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এমবাপ্পে অনেকটা লামিনের ধাঁচেরই। তাকে নিয়ে পুরো ৯০ মিনিট সতর্ক থাকতে হবে আমাদের।’
টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে ৮ গোল করা এমবাপ্পে অবশ্য পা মাটিতে রাখছেন। ২০২১ নেশন্স লীগের ফাইনাল বাদ দিলে স্পেনের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের সর্বশেষ জয়টি ২০০৬ বিশ্বকাপে। সেবার শেষ ষোলোতে ৩-১ গোলে জেতে লা ব্লুরা। গোল্ডেন বুটের দাবিদার এই তারকা স্পেনকে নিয়ে সতর্ক। এমবাপ্পে বলেন, ‘বিশ্বকাপ জেতার আগে কোনো স্বস্তি নেই। এখনো অনেক পথ বাকি। আমরা আমাদের সক্ষমতা জানি। তবে মাঠে সেটা প্রমাণ দিতে হবে।’

আজকের ম্যাচে দুই দলের একাদশেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সামান্য চোট পান এমবাপ্পে। তবে অনুশীলন করতে কোনো সমস্যা হয়নি। কাজেই তার খেলা নিশ্চিত। আরেলিয়েন চুয়ামেনির ফেরা নিয়ে আশাবাদী ফরাসি শিবির। তবে উইলিয়াম সালিবা ও দায়ো উপেমেকানো অনুশীলন মিস করায় তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে ম্যাচের দিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্পেনের জন্য সবচেয়ে বড় খবর নিকো উইলিয়ামসের ফেরা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিকো এতটাই ফিট যে চাইলে এই ম্যাচেই তাকে খেলানো যেতে পারে। কিন্তু দে লা ফুয়েন্তে তার উইনিং কম্বিনেশন ভাঙবেন কি না সেটাই বড় প্রশ্ন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন