বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে টেক্সাসের আর্লিংটনে মুখোমুখি হচ্ছে দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে আজ রাত ১টায়। এর আগে মাঠের বাইরের কথার লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়ালেন ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে হারিয়ে স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল দাবি করেছিলেন, সাম্প্রতিক ইতিহাস বিবেচনায় ফ্রান্সের উচিত স্পেনকে ‘ভয়’ পাওয়া। বোস্টনে ফরাসি শিবির থেকে ইয়ামালের সেই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন কোনাতে।
ইয়ামালের মন্তব্যকে পাত্তাই না দিয়ে সদ্য রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেয়া এই সাবেক লিভারপুল সেন্টার-ব্যাক বলেন, ‘ফ্রান্স কি স্পেনকে ভয় পায়? একদমই না। সত্যি বলতে, ম্যাচের আগে কে কী বললো, তা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। আমাদের কাউকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যে বিনম্রতা নিয়ে এই টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলাম তা ধরে রাখা এবং এই ধরণের কোনো ফাঁদে পা না দেয়া।’ নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ও (ইয়ামাল) যা ইচ্ছা বলতে পারে। আমরা আমাদের সেরা প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আশা করি ম্যাচ শেষে ফলাফল আমাদের পক্ষেই আসবে।’
কোনাতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দিদিয়ের দেশমের দল কেবল একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে ভাবছে না। ইয়ামালকে আটকানোর কোনো বিশেষ ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনা আছে কি না- জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা সুনির্দিষ্টভাবে তা নিয়ে ভাবিনি। স্পেন একটি ব্যতিক্রমী দল, যেখানে অনেক টপ-লেভেল খেলোয়াড় আছে। আমাদের লক্ষ্য কেবল একজন খেলোয়াড়ের ওপর ফোকাস করা নয়, কারণ ওদের পুরো দলই প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে পারে। এটা শুধু লামিন নয়, এটা পুরো স্পেন দল।’
ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারায় স্পেন। ম্যাচে একটি গোলও করেন ইয়ামাল। সেই হারের ক্ষত বা অতীত ইতিহাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোনাতে সেই ম্যাচটির কিছু বিশেষ পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেন।
টুর্নামেন্টের বিভিন্ন সময়ে চোট, কার্ডের সমস্যা কিংবা ফর্মের কারণে দিদিয়ের দেশমকে সেবার রক্ষণভাগে এমন কিছু খেলোয়াড়কে নামাতে হয়, যারা অতীতে একসঙ্গে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার খুব বেশি সুযোগ পাননি। সেই পরিস্থিতিই উল্লেখ করে কোনাতে বলেন, ‘মিথ্যা বলবো না, ওটা খুব কঠিন ম্যাচ ছিল। তবে ফরাসি শিবিরের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, সেদিন স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামা আমাদের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো বোঝাপড়া বা কেমিস্ট্রি তৈরি হওয়ার সময় ছিল না। আমরা সবাই সেদিন একসঙ্গে প্রথম ম্যাচ খেলেছিলাম, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছিল। আমার বিশ্বাস, সেই পরিস্থিতি ভিন্ন হলে ম্যাচের ফলাফলও অন্যরকম হতো।’
