বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগ পর্যন্ত মাঠে বসে কোনো ম্যাচ দেখেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে ফাইনালে তার থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফা। ফাইনালে উপস্থিত থেকে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো ফক্স নিউজকে বলেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একসঙ্গে ফাইনাল উপভোগ করবো এবং বিজয়ীর হাতে ট্রফি তুলে দেবো।’
সুইস সম্প্রচারমাধ্যম ব্লু স্পোর্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনোকে প্রশ্ন করা হয় যে, নিরাপত্তা বিবেচনায় ট্রাম্প অনুপস্থিত কিনা? জবাবে ইনফান্তিনো বলেন, ‘না, না। আমার মনে হয় তার এখনো কিছু অন্য কাজকর্ম আছে। আমি সবসময় তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’ দ্য মিরর জানিয়েছে, বিশ্বকাপের মাঠে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান নিয়ে তার সহকারীরা ‘ক্রাইসিস মোডে’ আছেন। ইংরেজিভাষী দলের ম্যাচ এড়িয়ে চলছেন তারা। যেন প্রেসিডেন্ট সেই স্লোগানের মুখে না পড়েন। ইনফান্তিনোকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি ও ট্রাম্প একসঙ্গে ট্রফি দেবেন কিনা? জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। আমরা সবসময় একসঙ্গে আছি।’ গত বছর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে চেলসি ৩-০ গোলে পিএসজিকে হারায়। সেদিন ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনোর পাশে ছিলেন ট্রাম্প। অনুষ্ঠানে চেলসি অধিনায়ক রিস জেমসের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রফি তুলে দেন ট্রাম্প। এতে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এমনকি চেলসি তারকা কোল পালমারও অবাক হয়েছিলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর সম্পর্ক বেশ জোরালো। ইনফান্তিনো তাকে গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য ১০টি টিকিট উপহার দেন। যার মোট মূল্য ১৫ হাজার ডলার। নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে অফিস খুলেছে ফিফা। গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কার পান ট্রাম্প। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বির্তকিত ঘটনার জন্ম হয় মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করতে সরাসরি ফিফার কাছে অনুরোধ করেন ট্রাম্প। পরে বালোগুনকে খেলতে দেয়া হলে ব্যাপক সমালোচনা হয়। আগামী ১৯শে জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনাল। ২০২৫ সালে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিশ্বকাপের ‘একের বেশি’ ম্যাচ দেখতে চান তিনি। সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। তবে ফাইনালে তিনি থাকবেন এটা এখন নিশ্চিত। প্রশ্ন হলো, ট্রফি তুলে দেয়ার সেই মুহূর্ত কি আনন্দের হবে, নাকি ক্লাব বিশ্বকাপের মতো আরেকটি বিতর্কের জন্ম দেবে?
