ফরাসি দল নিয়ে ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য, তোপের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে মাঠের বাইরে চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে দুই প্রতিবেশী দেশ স্পেন ও ফ্রান্স। ফ্রান্সের জাতীয় দলে ‘কোনো ফরাসি খেলোয়াড় নেই’- স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয়ের এমন বিতর্কিত ও উগ্র মন্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্পেনের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘এল ডিবেট’-এ প্রকাশিত একটি মতামত কলামে তিনি এই মন্তব্য করেন। রাখয়ের এই মন্তব্যের পরপরই তার নিজ দেশ এবং ফ্রান্সে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। স্পেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সম্পূর্ণ ‘জাতিবিদ্বেষী’ (জেনোফোবিক) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ সানচেজ লেখেন, ‘এমন কিছু মানুষ আছেন যারা এখনো পদবি, জন্মস্থান বা গায়ের রঙ দিয়ে জাতীয়তা পরিমাপ করেন। স্পেন কেবল তাদেরই, যারা এই দেশকে ভালোবাসে এবং এর জন্য কাজ করে। বর্ণবাদী বক্তব্য দিয়ে যারা দেশকে লজ্জিত করে, স্পেন তাদের জন্য নয়।’ স্পেনের পরিবহন মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে আরও কড়া ভাষায় রাখয়কে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। পুয়েন্তে তাকে ‘ফ্রাঙ্কো-পরবর্তী ইডিয়ট’ বলে আখ্যা দেন। ফরাসি রাজনৈতিক মহলও এই অপমানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ এক টিভি সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্যকে ‘একদমই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ফ্যাবিয়ান রুসেল এই ঘটনাটিকে প্যারাগুয়ের এক সিনেটরের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের সাথে তুলনা করেন, যিনি কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে বর্ণবাদী কথা বলেছিলেন। রুসেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এরা কোনোভাবেই নিজেদের ভেতরের এই নোংরা বর্ণবাদ উগরে দেয়া বন্ধ করতে পারছে না।’
মাদ্রিদে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাস এই অপপ্রচারের জবাবে জানায়, ফরাসি স্কোয়াডের ২৬ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৩ জনই ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বাকি ৩ জন বিদেশে জন্মালেও, তারা আইনত ফরাসি নাগরিক। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো একে ‘অসহনীয় বর্ণবাদের ইঙ্গিত’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন