বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা কার কতোটুকু?

বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা কার কতোটুকু?

ফন্ট সাইজ:

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ চার দল এবার সেমিফাইনালে। মোট আটটি বিশ্বকাপ শিরোপা তাদের ঝুলিতে। কিন্তু শিরোপার দাবিদার হিসেবে সবাই সমান নয়। কেউ এখনো সেরা ছন্দে পাননি। কেউ ছুটছেন অপ্রতিরোধ্যভাবে। আল জাজিরা জানাচ্ছে তাদের বিশ্লেষণ।

আর্জেন্টিনা
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারের বিশ্বকাপেও দুর্বার। টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয় থেকে দুই ধাপ দূরে আলবিসেলেস্তেরা। তবুও সেমিফাইনালে উঠা চার দলের মধ্যে হট ফেবারিট নয় আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কাগজে-কলমে তেমন শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হয়নি তারা। আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান, কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছে মেসিবাহিনী। সেমিফাইনালে আসার আগ পর্যন্ত তাদের যাত্রাটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে নাটকীয়তা ও রোমাঞ্চের পসরা সাজিয়ে জয়ের মালা পড়ে আর্জেন্টিনা। শেষ আটে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অচেনা আর্জেন্টিনাকেই দেখা গেছে। ম্যাক অ্যালিস্টারের দারুণ শুরুর পর নির্ধারিত ৯০ মিনিটে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। ১০ জনের দল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেতে রীতিমতো ঘাম ঝড়াতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। গ্রুপ পর্বে আত্মবিশ্বাসী মেসিকে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু নকআউট পর্বে আত্মবিশ্বাসে কিছু চিড় ধরছে বলে মনে হয়েছে। মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়াই বলে দেয় কতটা চাপে ছিলেন তিনি। তবে এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা খারাপ পরিস্থিতি কাটিয়ে ঠিকই জেতার পথ বের করে নিয়েছে। আরেকটি ফাইনালে উঠার পথে আর্জেন্টিনার বাধা ইংল্যান্ড। প্রশ্ন হচ্ছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও কি এমন পারফরম্যান্স দিয়ে পার পাবে আর্জেন্টিনা? সম্ভবত না। যদি মেসি গ্রুপ পর্বের মতো ছন্দ ফিরে পান, তবে টানা তিন বিশ্বকাপে সেমির মঞ্চ টপকানো আর্জেন্টিনার জন্য কঠিন হওয়ার কথা নয়। আর যদি সেটা সম্ভবও হয়, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন কিংবা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে টাইব্রেকারে পরাজিত করা প্রতিশোধপরায়ণ ফ্রান্সের বিপক্ষে এই আর্জেন্টিনা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ইংল্যান্ড
এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেরা খেলা কি এখনো দেখা যায়নি? সম্ভবত না। তারপরও তারা সেমিফাইনালে। ইতিহাসে চতুর্থবার। নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ভাগ্যক্রমে জিতেছে ইংল্যান্ডÑএ কথা দলটির কোচ টমাস টুখেল নিজেই স্বীকার করেন। সেই ম্যাচে জুড বেলিংহ্যাম একাই দলকে টেনে তোলেন। গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের ২০ মিনিট বাদে পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো দলকে প্রকৃতপক্ষে দাবিয়ে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড। মেক্সিকো সিটির উচ্চতা আর মিয়ামির অসহনীয় গরমের পর ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আটলান্টায় কিছুটা স্বস্তি পাবে তারা।
আর্জেন্টিনা দল শেষ তিন রাউন্ডে কেপ ভার্দে, মিশর এবং সুইজারল্যান্ডের গতি, মুভমেন্ট এবং কৌশলী খেলার বিপরীতে বেশ ধুঁকেছে। ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা, অ্যান্থনি গর্ডন, এমনকি মার্কাস রাশফোর্ডের মতো তরুণ ও গতিময় ফরোয়ার্ডদের জন্য সেই দুর্বলতার সুযোগ নেয়াটা আরও সহজ হবে। মেসির ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ছাড়া আক্রমণে আর্জেন্টিনা খুব একটা বড় কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেনি। তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হুলিয়ান আলভারেজের চোখ ধাঁধানো গোলটি হয়তো তার ব্যক্তিগত ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত। সবকিছু বিবেচনায়, ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। তবে ফ্রান্সের বিপক্ষে জয় পাওয়াটা তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এমনকি স্পেনকে পেলেও স্বস্তিতে থাকার কথা না ইংল্যান্ডের। ইউরো ২০২৪ ফাইনালে তাদের কাছে হেরেছিল থ্রি লায়ন্সরা।

স্পেন
রাউন্ড অব থার্টি টুতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে একপেশে জয় ছাড়া সেমিফাইনালিস্ট স্পেন এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তাদের সেরা ছন্দ খুঁজে পায়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল খাওয়ার আগে দলটির রক্ষণভাগ টানা ৬৪৯ মিনিট কোনো গোল হজম করেনি। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে রেকর্ড। এখন পর্যন্ত খেলা ছয় ম্যাচে স্পেনের গোলমুখে প্রতিপক্ষ মাত্র সাতটি শট রাখতে পেরেছে। গত এপ্রিলে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়া লামিন ইয়ামাল ধীরে ধীরে স্বরূপে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। স্পেনের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা প্রতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে রাখছেন। মিকেল মেরিনো পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোল করে নিজেকে পরিচয় করে দিয়েছেন রূপকথার নায়ক হিসেবে। তবে টুর্নামেন্টে চার গোল করা দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিকেল ওয়ারজাবাল শেষ দুই ম্যাচে ছন্দে ছিলেন না। তাই তাকে নিয়ে ফরাসি রক্ষণভাগের আতঙ্কিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি বড় মঞ্চে সাবলীল থাকলেও কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিস এবং উসমান দেম্বেলেদের দিয়ে গড়া শক্তিশালী আক্রমণের মুখোমুখি এখনো হননি তিনি। স্পেন ফাইনালে উঠলে শিরোপাজয়ী হিসেবে তারা ফেভারিট থাকবে। দুই বছর আগে তারা ইউরোর শিরোপা জিতেছিল।

ফ্রান্স
শক্তিশালী আক্রমণ ও রক্ষণভাগ নিয়ে গড়া ফ্রান্স সেমিফাইনালের আগ পর্যন্ত ছয় ম্যাচে মাত্র দুটি গোল হজম করেছে। দারুণ ফর্মে রয়েছেন দলটির আক্রমণভাগের মধ্যমণি কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোল্ডেন বুটে রেটে শীর্ষে তিনি। লিওনেল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পথে রয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। এছাড়া ওলিস, দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে এবং ব্র্যাডলি বারকোলা যেভাবে মাঠ জুড়ে প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছেন তাতে অস্বীকার করার উপায় নিয়ে এবারের বিশ্বকাপের সেরা দল ফ্রান্স। তবে স্পেনের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে তারা। বিশেষ করে রক্ষণভাগের পরীক্ষা দিতে হবে এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের। দানি ওলমো, আলেক্স বায়েনা, ফেরান তোরেস এবং ফাবিয়ান রুইজরা ওয়ারজাবালের আশেপাশে যেভাবে জায়গা তৈরি করছেন তা ফ্রান্সের চিন্তার কারণ হতে পারে। এর বাইরে সাব হিসেবে নামা মিকেল মেরিনোকে ভুলে গেলে চলবে না। বর্তমান সেমিফাইনালিস্টদের কেউই ‘লে ব্ল’দের আক্রমণভাগের মতো গতিশীল নয়। স্পেন তাদের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারে। তবে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা এই বাধা টপকে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। গত দুই বছরে ইউরো ২০২৪ এবং নেশনস লীগের সেমিফাইনালে ‘লা রোহা’দের কাছে হার দেখেছিল ফ্রান্স।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন