বিশ্বকাপের সংস্কৃতি যুদ্ধ ও লিওনেল মেসির কিংবদন্তি

আর্জেন্টাইন পত্রিকার নিবন্ধ

বিশ্বকাপের সংস্কৃতি যুদ্ধ ও লিওনেল মেসির কিংবদন্তি

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ নানা দিক থেকেই আর্জেন্টিনার জন্য অত্যন্ত সফল হয়ে উঠেছে। মাঠের খেলায় লিওনেল মেসি এখনও দলকে একের পর এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত জয়ী হচ্ছে আলবিসেলেস্তে। এর মধ্য দিয়ে আরও শক্তিশালী হচ্ছে তার ‘গোট’ বা ‘সর্বকালের সেরা’ ফুটবলারের কিংবদন্তি।

আটলান্টায় মিশরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে জয় তুলে নিয়ে দলটি যখন বিশ্বকাপে আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়, তখন আর্জেন্টিনায় যেন জীবন থমকে দাঁড়ায়। সম্ভাব্য বিদায়ের আশঙ্কায় পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের পর সেই উৎকণ্ঠা মুহূর্তেই উল্লাসে রূপ নেয়। মানুষ আবারও রাস্তায় নেমে উদযাপন শুরু করে, আর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিশ্লেষকরা এই বিস্ময়কর ক্রীড়া-উন্মাদনার ব্যাখ্যা খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, মঙ্গলবারের ওই ঘটনাগুলো বর্তমান সময়ের বহুল আলোচিত ‘সংস্কৃতি যুদ্ধ’ বা কালচারাল ওয়ারস বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। এই ধরনের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক বিতর্কের প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে-এর।

মেসির বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার কারণে পর্দার আড়ালে আর্জেন্টিনার পক্ষে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে- এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে, যখন ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা বিতর্কিতভাবে প্রত্যাহার হওয়ার পর তিনি ফিফা সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন। ট্রাম্প আরও স্বীকার করেন, এর আগে তিনি লাল কার্ড কী, সেটিই জানতেন না। তার দাবি ছিল, ঘটনাটি ফাউল ছিল না এবং সেরা খেলোয়াড়দের মাঠে থাকার সুযোগ দেয়া উচিত। শেষ পর্যন্ত বালোগান যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলেন। তবে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ জাতীয় ফুটবল দল ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে যায়।

এদিকে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত আর্জেন্টিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাউরিসিও ম্যাক্রি বর্তমানে ফিফা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ (অর্থাৎ ছোটখাটো) তাপিয়া। তবে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা পাইয়ে দেয়ার অভিযোগের পক্ষে ফুটবলভিত্তিক কথার লড়াই ছাড়া শক্ত কোনো প্রমাণ এ পর্যন্ত সামনে আসেনি।

আরেকটি বড় বিতর্কের বিষয় হলো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জাতিগত গঠন। বিশ্বের শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে সম্ভবত এটিই একমাত্র দল, যার স্কোয়াডে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কোনো খেলোয়াড় নেই। এই বিষয়টি প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ উসকে দেয়।

এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ম্যাচ চলাকালীন ও ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান-এর মন্তব্যে। তিনি অভিযোগ করেন, ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং ফিফা তার দলের প্রতি বিদেশিবিদ্বেষী আচরণ করেছে। একই ধরনের অভিযোগ বিশ্বকাপ চলাকালে ইরানের প্রতিনিধিদলও তোলে। বিশেষ করে দলের অধিনায়ক মেহদি তারেমি একই ধরনের মন্তব্য করেন।

যে সময়ে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাত চলছে, আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি বোমা হামলা ও সামরিক উত্তেজনায় জড়িয়ে রয়েছে, তখন এই বিশ্বকাপের ঘটনাগুলোর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য পুরোপুরি উপেক্ষা করা কঠিন। অবশ্য এই সংঘাতে আর্জেন্টিনা সরাসরি কোনো পক্ষ নয়। তবে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে ডনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক আদর্শ ও পররাষ্ট্রনীতির প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন দেয়ায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। আর্জেন্টিনা দলের কয়েকজন খেলোয়াড় অতীতে বর্ণবাদবিষয়ক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। বিশেষ করে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর এনজো ফার্নান্দেজ এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ ফ্রান্স দলকে ব্যঙ্গ করায় সমালোচনার মুখে পড়েন। তবে এবারের বিশ্বকাপে মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো বিতর্ক এ পর্যন্ত দেখা যায়নি।

অভিবাসন বিতর্ক এখন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জাতিগত পরিচয় এবং ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর খেলোয়াড়দের বংশগত পরিচয়কে কেন্দ্র করেও তীব্রভাবে আলোচিত হচ্ছে। ডানপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী মহলের একটি অংশের দাবি, ইউরোপীয় ফুটবল দলগুলো আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অভিবাসীদের মাধ্যমে এক ধরনের ‘উল্টো উপনিবেশায়নের’ (রিভার্স কলোনাইজেশন) শিকার হয়েছে। তাদের মতে, জার্মানির মতো কয়েকটি দলের পারফরম্যান্সে যে অবনতি দেখা গেছে, তার একটি কারণ এটাই। আবার অন্যদের সমালোচনা হলো, অনেক ইউরোপীয় দলে বিদেশে জন্ম নেয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। তবে বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। এসব দলের অনেক খেলোয়াড়ই আফ্রিকার সাবেক ফরাসি উপনিবেশগুলোতে জন্মগ্রহণ করেছেন। তাদের বড় একটি অংশ ফ্রান্সের ফুটবল একাডেমিতে বেড়ে উঠেছেন বা সেখানেই ফুটবল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

অবশ্য এ নিয়ে ফ্রান্সে খুব একটা অভিযোগ নেই। কিলিয়ান এমবাপ্পে- যার পারিবারিক শিকড় ক্যামেরুন ও আলজেরিয়ায়, তিনি এমন একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এমবাপ্পে যেমন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পান, তেমনি সমালোচনাও কম সহ্য করতে হয় না।

আর্জেন্টিনায় রাজনীতি ও ফুটবলের দীর্ঘ সম্পর্ক

আর্জেন্টিনায় রাজনীতি ও ফুটবলের সম্পর্ক বহু পুরোনো। ১৯৭৮ সালে কোচ সেসার লুইস ‘এল ফ্লাকো’ (অর্থাৎ রোগা) মেনোত্তি এবং তারকা ফরোয়ার্ড মারিও ‘মাতাদোর’ কেম্পেস-এর নেতৃত্বে আলবিসেলেস্তে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে। তখন দেশটির ক্ষমতায় ছিল স্বৈরশাসক হোর্হে রাফায়েল বিদেলা’র নেতৃত্বাধীন সামরিক জান্তা। বিশ্বকাপকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার-সম্মানকারী রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেছিল সেই সরকার। অথচ একই সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেশটিতে হাজার হাজার মানুষের গুম হওয়ার খবর প্রকাশিত হচ্ছিল। জান্তা সরকারের প্রচারণার স্লোগান ছিল- ‘লস আর্জেন্তিনোস সোমোস দেরেচোস ই উমানোস’। এটি ছিল স্প্যানিশ শব্দ ‘দেরেচোস উমানোস’ বা ‘মানবাধিকার’ শব্দগুচ্ছকে ঘিরে তৈরি একটি রাজনৈতিক স্লোগান।
কিন্তু বিশ্বকাপ চলাকালেই মোনুমেন্তাল স্টেডিয়াম থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে সামরিক জান্তার সদস্যরা বেসামরিক মানুষকে নির্যাতন ও হত্যা করছিল। সেই স্টেডিয়ামেই পরে আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে।

মারাদোনা: ফুটবল কিংবদন্তি, একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতীক

আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের আরেক অত্যন্ত রাজনৈতিকভাবে আলোচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা। রাজনৈতিক আদর্শের দিক থেকে তিনি বামপন্থার প্রতি বেশি ঝুঁকেছিলেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ‘লা পেলুসা’ (অর্থাৎ তুলা বা নরম লোম) নামে পরিচিত ম্যারাডোনা মাদকাসক্তি থেকে সুস্থ হতে কিউবার রাজধানী হাভানায় দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। সে সময় তিনি কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রোর তত্ত্বাবধান ও সহায়তা পান। ম্যারাডোনার ডান হাতে আর্জেন্টিনায় জন্ম নেয়া বিপ্লবী গেরিলা নেতা চে গুয়েভারার একটি বড় ট্যাটু ছিল।

জীবনের শেষদিকে তিনি তৎকালীন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ দে কির্চনার-এর ঘনিষ্ঠ সমর্থক হয়ে ওঠেন। বিশ্লেষকদের মতে, এর একটি কারণ ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট মাউরিসিও ম্যাক্রির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ। ম্যাক্রি যখন বোকা জুনিয়র্স ক্লাবের সভাপতি ছিলেন, তখন তার সঙ্গে ম্যারাডোনার প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত সেই বিরোধই ম্যারাডোনার খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষ করার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করা হয়।

মেসির উত্থান এবং রাজনীতি থেকে দূরত্ব

২০২১ সালে ব্রাজিলের কিংবদন্তি মারাকানা স্টেডিয়ামে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ২৮ বছরের শিরোপা খরা কাটায়। সেই জয়ের পর লিওনেল মেসি অবশেষে আর্জেন্টিনার ‘হিঞ্চা’ (অর্থাৎ সমর্থক)দের কাছে কিংবদন্তির আসনে প্রতিষ্ঠিত হন। তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয় তাকে আরও অনেক উঁচুতে- প্রায় অন্য এক মহিমার স্তরে পৌঁছে দেয়। ২০২১ ও ২০২২- দুইবারই মেসি এবং কোচ লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বাধীন দলটি আগের প্রচলিত রীতি ভেঙে কাসা রোসাদা (আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়)-এ যায়নি। সেই সময় আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ছিলেন আলবার্তো ফার্নান্দেজ। একই সময়ে তার সরকারের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ দে কির্চনার। এটি ছিল বৈশ্বিক কোভিড-১৯ মহামারির শেষ পর্যায়ের সময়। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক মেরুকরণ তখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

মিলের আমন্ত্রণ, কিন্তু রাজনৈতিক বিতর্কও চলছে

এবার আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে বলেছেন, লিওনেল মেসি ও জাতীয় দলের জন্য কাসা রোসাদার বারান্দা থেকে সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপনের আমন্ত্রণ এখনও বহাল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানটি যেন রাজনৈতিক রূপ না নেয়, সে জন্য তিনি এবং তার বোন নিজেদের আড়ালে রাখবেন। তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কিছুটা অমিল রয়েছে। কারণ মিলের বিতর্কিত রাজনৈতিক উপদেষ্টা সান্তিয়াগো কাপুতো পরিচালিত বলে অভিযোগ থাকা ডিজিটাল ট্রল নেটওয়ার্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রচারণা চালিয়ে আসছে যে, ‘কুকা’ (কির্চনারপন্থীদের অবমাননাকরভাবে বোঝাতে ব্যবহৃত একটি শব্দ) বা কির্চনারপন্থী গোষ্ঠী নাকি আলবিসেলেস্তের পরাজয় চায়, যাতে মিলে সরকারের জনপ্রিয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রেপুতাসিওন ডিজিতাল-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাতীয় ফুটবল দল ও রাজনীতি নিয়ে মানুষের মনোভাবের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, জাতীয় দল সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব ৭১ শতাংশ, আর মেসিকে নিয়ে ইতিবাচক মতামত ৬৪ শতাংশ। তবে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের পর রাজনীতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ জাতীয় দলের সাফল্যের প্রভাব রাজনৈতিক জনমতেও কিছুটা পড়েছে।

বিশ্বকাপ কখনোই শুধু ফুটবল নয়

বিশ্বকাপ কখনোই শূন্যতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় না। ফুটবলের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে এর গভীর প্রভাবের কারণে বিশ্বকাপ বিশ্বজুড়ে মানুষের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও মানসিকতা গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনার কেন্দ্রীয় অবস্থান এবং দেশটির ফুটবলপাগল জনগোষ্ঠী এই বাস্তবতাকে আরও জটিল ও তীব্র করে তুলেছে। অতিমাত্রায় সংযুক্ত ডিজিটাল বিশ্ব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথ্যপ্রবাহকে যেমন দ্রুততর করেছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে সেটিকে বিকৃতও করেছে। এর ফলে নানা ধরনের বর্ণনা, বিতর্ক ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে লিওনেল মেসি, ডনাল্ড ট্রাম্প এবং হাভিয়ের মিলে- তিনজনই নিজ নিজ উপায়ে এই বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছেন। ঠিক যেমন আর্জেন্টিনা এবারের বিশ্বকাপে একের পর এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে নতুন গল্প লিখছে।

আর দীর্ঘদিন পর এমন এক সময় এসেছে, যখন রাজনৈতিক নেতারা জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকেও ফুটবলের এই আবেগঘন পরিবেশে নিজেদের জন্য কিছুটা স্বস্তির হাসি খুঁজে পাচ্ছেন।

(অনলাইন বুয়েন্স আয়ারস টাইমস থেকে অনুবাদ)

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন