মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অধীনে দেয়া প্রতিশ্রুতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা-পাল্টা হামলা হয়। ইরান উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেয়।
এই নতুন সংঘাত গত মাসে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং আরও ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানো। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করলেও ভবিষ্যতে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অঞ্চলটির সব ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পাকিস্তান দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অধীনে নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার আহ্বান জানাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে অঞ্চলে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার সব প্রচেষ্টায় পাকিস্তান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা করেন। ইসহাক দার তার আরাঘচিকে বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার একমাত্র কার্যকর পথ হলো সংলাপ ও কূটনীতি। তিনি সব পক্ষকে উত্তেজনা কমানোর আরও পদক্ষেপ নেয়া এবং জুন মাসে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই নেতা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন।
