উড়তে থাকা আর্জেন্টিনার কাছে যেন ‘স্কাই ইজ দ্য লিমিট’। কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের কাছে হারের পর আলবিসেলেস্তেরা টানা ১২ ম্যাচ জিতেছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’। শিরোপা ধরে রাখতে তাদের জিততে হবে কেবল দুই ম্যাচ। অতীত ইতিহাসও বলছে, সেমিতে উঠলে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেই ছাড়ে। কানসাসে রোববার আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল ৯০ মিনিট শেষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। শেষ পর্যন্ত লিওনেল স্কালোনির দল ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। যার মধ্যে ১২০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ১ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন সুইজারল্যান্ড গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। তবে ফিরতি বলে কোনো ভুল করেননি লাউতারো মার্টিনেজ। ফাঁকা জালে বল জড়ানোর পর লাউতারোর উচ্ছ্বাস থামানোর সাধ্য কার! দৌড়ে গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের কাছে চলে যান তিনি। লাউতারোর গোলের কিছুক্ষণ পরই রেফারি শেষ বাঁশি বাজিয়ে দেন। ষষ্ঠবারের মতো সেমিতে ওঠার আনন্দে তৎক্ষণাৎ উল্লাস শুরু করে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পর মার্টিনেজের কথায় স্পষ্ট, জয়ের জন্য তারা কতোটা ক্ষুধার্ত।
কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে তিনি বলেন, ‘এটার (জয়ের) পুনরাবৃত্তি করতে আমরা কখনোই ক্লান্ত হই না। এই দলের মধ্যে সব সময়ই আরও একটু বেশি দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে।’ ৬৭ মিনিটে ডান এনদয়ের গোলে সমতায় ফেরার পর সুইজারল্যান্ড দ্রুতই ১০ জনের দলে পরিণত হয়। জোড়া হলুদ কার্ড দেখে ব্রিল এমবোলো ৭২ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এক জন কমে যাওয়ার পর সুইজারল্যান্ড যেন মানসিকভাবে অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। চাইলে ৯০ মিনিটের মধ্যেই খেলা শেষ করতে পারতো আর্জেন্টিনা। কিন্তু মেসি ও তার সতীর্থরা ঠিকঠাক ফিনিশিং দিতে পারেননি। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর পর ১১২ মিনিটে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ। আর ইতি তো টেনেছেন লাউতারো মার্তিনেজ। প্রতিপক্ষ দলের এক ফুটবলার কমে গেলেও আর্জেন্টিনার হার না মানা মানসিকতার প্রশংসা করেছেন মার্টিনেজ।
আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার বলেন, ‘আমরা একটানা আক্রমণ চালিয়ে গেছি। ম্যাচে নিজেদের ধরে রেখেছি। শেষ পর্যন্ত আমরা গোলগুলো দিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছি।’ সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তাতে বিশ্বকাপ ফুটবলে ঘটলো এক ইতিহাস। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারে থাকা দলগুলোই এবার প্রথমবারের মতো খেলছে সেমিফাইনালে। ১৪ই জুলাই ডালাসে প্রথম সেমিতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-স্পেন। বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স ও স্পেন অবস্থান করছে ১ ও ৩ নম্বরে। আর আটলান্টায় ১৫ই জুলাই হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের অবস্থান ২ ও ৪ নম্বরে। গত বছরের ৫ই ডিসেম্বর যখন বিশ্বকাপের সূচি ঠিক করা হয়েছিল, তখনো র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড।
